
কলকাতা থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে বাসন্তী রাজ্যসড়কের পাশে অবস্থিত এশিয়ার বৃহত্তম চর্মনগরী কলকাতা লেদার কমপ্লেক্স। প্রায় ৪.৫ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এই কমপ্লেক্সের ট্যানারিগুলির দূষিত জল প্রক্রিয়াকরণের পর নির্দিষ্ট নিকাশি নালার মাধ্যমে খালে যাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে সেই নিয়ম মানা হচ্ছে না বলেই অভিযোগ স্থানীয়দের। কমপ্লেক্সের ভিতর থেকেই কেমিক্যাল মেশানো দূষিত জল উপচে পড়ে রাস্তায়, সেখান থেকে আশপাশের গ্রামগুলিতে ঢুকে পড়ছে।
এই দূষিত জল কমপ্লেক্স পেরিয়ে প্রায় আট কিলোমিটার দূরের খোরখালি, ঝাউখালি, দুর্গাপুর, চণ্ডিপুর-সহ একাধিক আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামে পৌঁছে গিয়েছে। ওই সব গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা খালের জলেই নির্ভর করে বহু গরিব পরিবার, কৃষিকাজ, মাছচাষ থেকে শুরু করে দৈনন্দিন গৃহস্থালির কাজ পর্যন্ত। এখন সেই জল ব্যবহার করাই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। জমিতে ফসল নষ্ট হচ্ছে, পুকুরে মাছ মরছে, প্রতিদিনই হাঁস-মুরগি-সহ গৃহপালিত প্রাণীর মৃত্যুর খবর মিলছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দূষিত জলের কারণে চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যাও বাড়ছে। কমপ্লেক্সের দেখভালের দায়িত্বে থাকা কলকাতা লেদার কমপ্লেক্স ট্যানারি অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠছে। রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে প্রশাসনিক টানাপোড়েন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
গ্রামের মানুষজন সম্মিলিতভাবে এলাকার বিধায়ক সওকাত মোল্লার কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিলেও এখনও পর্যন্ত পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়নি। প্রশ্ন উঠছে, আদৌ কি বন্ধ হবে এই দূষণের স্রোত, নাকি লেদার কমপ্লেক্সের বিষাক্ত জলেই ধীরে ধীরে ডুবে যাবে গ্রামের জীবন?
