
ভোটের বছরে রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেট নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তুললেন। তিনি জানান, ‘‘শত বঞ্চনার মধ্যেও আমরা আর্থিক শৃঙ্খলা ভাঙিনি। এফআরবিএম-এর সব নিয়ম মেনেই রাজ্য পরিচালিত হচ্ছে।’’ মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তাঁর সরকারের সময়ে রাজ্যে বেকারত্ব ৪৫.৬৫ শতাংশ কমেছে এবং প্রায় ১ কোটি ৭২ লক্ষ মানুষকে দারিদ্রসীমার বাইরে আনা সম্ভব হয়েছে।
ভোটের মুখে নতুন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প হিসেবে ‘বাংলার যুব সাথী’ ঘোষণা করা হয়েছে। মাধ্যমিক পাশ এবং ২১–৪০ বছর বয়সী বেকার যুবকদের মাসে ১,৫০০ টাকা ভাতা দেওয়া হবে। প্রকল্পটি আগামী ১৫ অগস্ট থেকে কার্যকর হবে। মুখ্যমন্ত্রী এসময় প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং নির্বাচনের আগে দেওয়া কথার প্রতি গুরুত্বের বিষয়েও মন্তব্য করেন।
বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী এই প্রকল্পকে ঘিরে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘সরকার শিক্ষিত বেকারদের চাকরি চুরি বা বিক্রি করছে এবং ১,৫০০ টাকার প্রলোভন দেখাচ্ছে।’’ তবে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বাজেট বাংলার মানুষের জন্য গর্বের বিষয়।
অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বিধানসভায় ভোট অন অ্যাকাউন্ট পেশ করেছেন। তার পরেই মুখ্য উপদেষ্টা অমিত মিত্র রাজ্যের উন্নয়নের ‘রেকর্ড’ তুলে ধরেছেন। বাজেটের পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের ৪% ডিএ বৃদ্ধি এবং রাজ্যের সামাজিক ও আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির পরিসংখ্যানও প্রকাশ করা হয়েছে।
সংবাদ বৈঠক থেকে স্পষ্ট, ভোটের বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিরুদ্ধে তীব্র সুর বজায় রেখেছেন এবং রাজ্যের উন্নয়ন ও প্রতিশ্রুতি রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। সামাজিক নিরাপত্তা এবং বেকার যুবকদের জন্য বিশেষ ভাতা প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার ভোটের আগে জনমতের সমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
