
২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যের বিরোধী রাজনীতিতে নতুন করে জোট-সমীকরণ ঘিরে চর্চা শুরু হয়েছে। বামফ্রন্ট ও আইএসএফের হাত ছেড়ে কংগ্রেস একাই ২৯৪ আসনে লড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তথাকথিত ‘তৃতীয় শক্তি’র ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল ছেড়ে গড়া হুমায়ুন কবীরের জনতা উন্নয়ন পার্টি (জেইউপি)-র সঙ্গে আইএসএফ-এর আসন সমঝোতার সম্ভাবনা ঘিরে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে।
ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী জানান, জেইউপি-র সঙ্গে জোট নিয়ে দলের রাজ্য কমিটিতে আলোচনা হবে। বৈঠকের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, আসন সমঝোতা হবে কি না এবং হলে কোন কোন এলাকায় হবে। নওশাদের কথায়, “আমাদের দল ২৯৪টি আসনে লড়ার মতো জায়গায় নেই। আমরা ৬০ থেকে ৭০টি আসনে প্রার্থী দিতে চাই। লক্ষ্য একটাই, তৃণমূল ও বিজেপির বাইরে থাকা দলগুলির মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা।”
কংগ্রেসের জোট ছেড়ে একক লড়াইয়ের ঘোষণায় বাম-আইএসএফ জোটের কৌশলেও বদলের ইঙ্গিত মিলছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, মুর্শিদাবাদ ও মালদার কিছু আসনে বাম, আইএসএফ ও হুমায়ুন কবীরের প্রভাব এক জায়গায় পড়লে তৃণমূলের অঙ্ক কঠিন হতে পারে। ইতিমধ্যেই রেজিনগর ও বেলডাঙা থেকে প্রার্থী ঘোষণা করেছেন হুমায়ুন কবীর।
উল্লেখ্য, ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ জোট মিলিয়ে মাত্র একটি আসনে জয় এসেছিল, ভাঙড়ে নওশাদ সিদ্দিকীর জয়। সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই এবার আইএসএফ সীমিত আসনে লড়ে প্রভাব বাড়ানোর কৌশল নিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। সব মিলিয়ে ভোটের আগে জোটের অঙ্ক কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্য রাজনীতি।
