
রাজনীতির মঞ্চে যাঁদের তীব্র বাক্যবাণে বহুবার মুখোমুখি হতে দেখা গিয়েছে, সেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও মহুয়া মৈত্রকে এক ফ্রেমে হাসিমুখে দেখা যাবে, এমন দৃশ্য ক’জন ভেবেছিলেন? রবিবার তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষের মেয়ের বিয়েবাড়িতে সেই ছবিই সামনে এসেছে। দীর্ঘদিনের প্রকাশ্য বিরোধিতার পর দুই সাংসদকে পাশাপাশি বসে আলাপচারিতায় মেতে উঠতে দেখে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা, তবে কি বরফ গলছে?
কল্যাণ–মহুয়ার দ্বন্দ্ব নতুন নয়। কসবা কলেজে ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার পর কল্যাণ ও মদন মিত্রের মন্তব্য ঘিরে মহুয়ার তীব্র প্রতিক্রিয়া রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন ফেলেছিল। পাল্টা কল্যাণও বারবার কটাক্ষ করেছেন মহুয়াকে। এমনকি দলীয় বৈঠকের দিন পার্টি অফিসের সামনে প্রকাশ্যে মহুয়ার উপস্থিতিতে বিরূপ মন্তব্য করতেও পিছপা হননি তিনি। সেই সব ঘটনার স্মৃতি এখনও তাজা তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মনে।
কিন্তু বিয়েবাড়ির ছবি অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। একাধিক ছবিতে দেখা যাচ্ছে, দু’জনেই পাশাপাশি বসে কথা বলছেন, কখনও হাসছেন, কখনও হালকা আলাপচারিতায় মগ্ন। কোথাও চোখাচোখি, কোথাও বিদায়ের মুহূর্তে সৌজন্যমূলক দৃষ্টি বিনিময়। রাজনীতির উত্তাপের বাইরে সামাজিক পরিসরে এই ‘স্বাভাবিকতা’ দলের অন্দরমহলেও কৌতূহল জাগিয়েছে।
দলীয় সূত্রের মতে, তৃণমূল নেতৃত্ব বরাবরই প্রকাশ্য বিবাদে অস্বস্তি বোধ করে। লোকসভা নির্বাচনের পর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা জোরদারের বার্তা যেমন এসেছে, তেমনই দলের ভিতরের মতানৈক্য বাইরে না আনার অনুরোধও করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই কি দু’জনের মধ্যে সম্পর্কের বরফ গলছে? নাকি এটি নিছক সামাজিক সৌজন্য, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, রাজনীতিতে সম্পর্কের রসায়ন বদলাতে সময় লাগে না। আজ প্রতিদ্বন্দ্বী, কাল সহযাত্রী এমন নজির কম নয়। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, বিয়েবাড়ির সৌজন্যকে বড় করে দেখা ঠিক নয়; প্রকাশ্য মঞ্চে দু’জনের অবস্থান বদলেছে, এমন প্রমাণ এখনও মেলেনি।
সব মিলিয়ে, বিয়েবাড়ির কয়েকটি ছবি ঘিরে কল্যাণ–মহুয়া সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হলো কি না, তা সময়ই বলবে। তবে আপাতত, তৃণমূল শিবিরে এই দৃশ্য রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেও এক টুকরো ‘নরম মুহূর্ত’ এনে দিল, যা আলোচনা থামাবে না শিগগিরই।
