
পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর ইস্যুতে রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ সোমবার ইকো পার্কে সাংবাদিকদের সামনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলাকে ‘ড্রামা’ ও ‘পাবলিসিটি স্টান্ট’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের এই মামলার উদ্দেশ্য প্রকৃত কোনো সমাধান নয়, বরং উকিল দিয়ে পয়সা খরচ করে মামলাকে প্রচারের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা।
দিলীপ ঘোষ বলেন, “আজ সুপ্রিম কোর্টে মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত না থাকলে এবং উকিল দিয়ে মামলা লড়ালে, তাহলে কেন আগে গিয়ে মামলার প্রস্তুতি নিলেন? এটা সম্পূর্ণ নাটক। সমস্ত জনগণ জানে, ঘটনা ঠিক যেভাবে ঘটছে না।” তিনি আরও কটাক্ষ করে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ‘গণতান্ত্রিক দাবির নাম করে’ প্রচারমূলক কার্যক্রম করছেন।
এছাড়া, তিনি তৃণমূল সরকারের সময় রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং ভুয়ো ভোটারের বিষয়েও অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, “ভুয়ো ভোটারদের মাধ্যমে ভোটার তালিকায় গরমিল তৈরি করা হচ্ছে, আর তৃণমূল সরকার এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছে না।” নবান্নের তথ্য অনুযায়ী, এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য ৮,৫০৫ জন গ্রুপ-বি অফিসার বরাদ্দ থাকবে।
দিলীপ ঘোষ আরও দাবি করেন, রাজ্যের প্রশাসন সাধারণ মানুষ ও বিজেপি কর্মীদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি বলেন, “এসআইআরকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষ ও আমাদের কর্মীরা হুমকির মুখে পড়ছে। রাজ্যে গণতন্ত্র এখন ভয়ঙ্করভাবে হুমকির মধ্যে।”
দিলীপ ঘোষের মন্তব্য পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী মঞ্চে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপির আক্রমণ শক্তিশালী করার একটি প্রচেষ্টা। এসআইআর ইস্যু আগামী নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে।
