
পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা নিয়ে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছেন। গত বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়েছে। মমতা অভিযোগ তুলেছেন, ভোটার তালিকায় সামান্য ভুল বা অসঙ্গতি থাকায় সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রী শুনানিতে উল্লেখ করেছেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যেসব নোটিস পাঠানো হয়েছে, সেগুলির মধ্যে অনেক অযৌক্তিক। তিনি এও দাবি করেছেন, যাদের ৭ নম্বর ফর্ম জমা পড়েছে, তাদের তথ্য প্রকাশ করা হোক। প্রধান বিচারপতি শুনানির সময় তাকে সওয়াল করার সুযোগ দেন, যা পেয়ে মমতা বলেন, “আমি এসেছি সাধারণ মানুষের জন্য, নিজের জন্য নয়।”
মামলার শুনানিতে মমতা নির্বাচন কমিশনকে ‘হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন’ হিসেবে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় মূল লক্ষ্য ভোটারদের তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া। আদালত শুনানি শেষে নোটিস জারি করে, কমিশনকে আরও সংবেদনশীল হওয়ার নির্দেশ দেয় এবং প্রয়োজন ছাড়া নোটিস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়।
এর পাশাপাশি নবান্ন জানিয়েছে, এসআইআরের কাজের জন্য মোট ৮,৫০৫ জন গ্রুপ-বি আধিকারিক বরাদ্দ করা হবে। তবে কৌতূহল এখন এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী সোমবার সুপ্রিম কোর্টে সশরীরে উপস্থিত হবেন কি না। সূত্রের খবর, তিনি হয়তো ভার্চুয়ালি শুনানিতে যোগ দেবেন।
এই মামলাটি শুধুমাত্র ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য নয়, এটি রাজ্যের নির্বাচনী পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইঙ্গিতও দিচ্ছে। আগামীদিনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে এখন সকলের নজর।
