
নয়াদিল্লি: লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা নিয়ে বিরোধী শিবিরে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এল। তৃণমূল কংগ্রেস অনাস্থা প্রস্তাবে নীতিগতভাবে আপত্তি না করলেও, আগে ইন্ডিয়া ব্লকের সব শরিককে একসঙ্গে চিঠি দিয়ে অধ্যক্ষকে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছে। অন্যদিকে কংগ্রেস সেই প্রস্তাবে সই করে ইতিমধ্যেই নোটিস জমা দিয়েছে সংসদে।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে দলের ২৮ জন সাংসদই সই করতে প্রস্তুত। তবে তাঁর মতে, আগে চারটি নির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরে অধ্যক্ষকে যুক্তিসঙ্গত সময় দেওয়া উচিত। বিশেষ করে কংগ্রেসের আট জন সাংসদের সাসপেনশন নিয়ে পুনর্বিবেচনার আবেদন জানানো যেতে পারে। দু’-তিন দিনের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না এলে তবেই অনাস্থা প্রস্তাবে যাওয়া হোক, এমনটাই চেয়েছে তৃণমূল।
কিন্তু কংগ্রেস ‘ধীরে চলো’ নীতিতে রাজি হয়নি। সংসদের বিধি অনুযায়ী অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিস জমা দিয়েছে তারা। কংগ্রেস সূত্রে দাবি, আপাতত অন্তত ১১৮ জন সাংসদের সমর্থন রয়েছে এই প্রস্তাবের পক্ষে। বিরোধীদের অভিযোগ, অধ্যক্ষের ভূমিকা পক্ষপাতদুষ্ট এবং সংসদ পরিচালনায় বিরোধীদের কণ্ঠ রুদ্ধ করা হচ্ছে।
সংসদের অচলাবস্থা নিয়েও সরব হন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, সংসদ সচল রাখতে তৃণমূল বরাবরই আগ্রহী। কিন্তু বারবার মুলতুবির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা এড়িয়ে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। বাজেট নিয়ে আলোচনা, প্রশ্নোত্তর পর্ব ও জিরো আওয়ারে জনগণের সমস্যা তুলে ধরার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।
তৃণমূলের বক্তব্য, ভুল হলে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত। আগে চিঠি, তারপর পদক্ষেপ, এই প্রক্রিয়াতেই এগোতে চায় তারা। যদিও কংগ্রেস ইতিমধ্যেই অনাস্থার পথে হাঁটায় বিরোধী ঐক্যে এক ধরনের কৌশলগত ফাটল স্পষ্ট। শেষ পর্যন্ত স্পিকার এই নোটিস গ্রহণ করেন কি না এবং সংসদের কার্যতালিকায় তা ওঠে কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
