
ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহে প্রেমিক-প্রেমিকাদের জন্য বিশেষ দিনগুলোর মধ্যে ১০ ফেব্রুয়ারি উদযাপিত ‘টেডি ডে’ অন্যতম। এই দিনে প্রিয় মানুষকে একটি নরম, তুলতুলে টেডি বিয়ার উপহার দিয়ে ভালোবাসা ও স্নেহের বার্তা জানানো হয়। শুধু খেলনা নয়, টেডি বিয়ার এক ধরনের আবেগের ছায়া, যা প্রিয়জনের অনুপস্থিতিতেও মানসিক প্রশান্তি এবং একাকীত্ব দূর করতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সম্পর্কের নিরাপত্তা এবং কোমলতা প্রকাশের এক সুন্দর মাধ্যম।
টেডি বিয়ার নামের ইতিহাসও দারুণ মানবিক। ১৯০২ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট থিওডর রুজভেল্ট, যাঁর ডাকনাম ‘টেডি’, মিসিসিপিতে শিকারে গিয়ে আহত একটি ভালুক ছানাকে হত্যা করতে অস্বীকার করেছিলেন। সংবাদপত্রে প্রকাশিত কার্টুনটি দেখেই নিউইয়র্কের এক খেলনা বিক্রেতা দম্পতি কাপড়ের ছোট ভালুক তৈরি করেন এবং প্রেসিডেন্টের অনুমতি নিয়ে নাম রাখেন ‘টেডি বিয়ার’। এরপর থেকে এটি বিশ্বব্যাপী স্নেহের প্রতীক হয়ে ওঠে।
বর্তমান সময়ে টেডি বিয়ার উপহার দেওয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন রঙে মনের ভাব প্রকাশ করা হয়। লাল টেডি গভীর ভালোবাসা ও রোমান্সের প্রতীক, গোলাপী টেডি পছন্দ বা প্রস্তাব গ্রহণের ইঙ্গিত, নীল টেডি সম্পর্কের গভীরতা ও বিশ্বাস বোঝায়, আর হলুদ টেডি বন্ধুত্বের হাত বাড়ানোর প্রতীক।
ডিজিটাল যুগে নানা দামি উপহারের ভিড় থাকলেও টেডি বিয়ার এখনও অমলিন আবেদন রাখে। এটি উপহার নয়, বরং প্রিয় মানুষের দীর্ঘস্থায়ী আলিঙ্গনের প্রতীক। তাই ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহে টেডি বিয়ার শুধু খেলার বস্তু নয়, বরং ভালোবাসার এক অমূল্য বার্তা বহন করে। যুগলরা এই দিনে টেডি বিয়ারকে শুধু উপহার হিসেবে নয়, প্রিয়জনের কাছে অনুভূতির প্রকাশ হিসেবে ব্যবহার করেন।
টেডি ডে উদযাপনের মাধ্যমে ভালোবাসার সপ্তাহ আরও মধুর হয়ে ওঠে, সম্পর্কের কোমলতা ও নিরাপত্তা সবার কাছে পৌঁছে দেয়। ছোট এই নরম খেলনাটি এক ধরনের আবেগের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে, যা দীর্ঘকাল হৃদয়ে স্মৃতি হয়ে থাকে।
