
কয়লা পাচারের দুর্নীতি মামলায় পশ্চিম বর্ধমানের দুই ব্যবসায়ী চিন্ময় মণ্ডল ও কিরণ খাঁকে গ্রেফতার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ধৃতরা স্থানীয়ভাবে ‘কয়লা মাফিয়া’ হিসেবে পরিচিত। তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে কলকাতায় ইডির দফতরে জিজ্ঞাসাবাদের পর, কারণ তাঁরা অভিযোগের বিষয়ে সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি।
চিন্ময় মণ্ডল দুর্গাপুরের এবং কিরণ খাঁ রানিগঞ্জের বক্তারনগর এলাকার বাসিন্দা। মামলার সূত্রে জানা গেছে, তারা মামা-ভাগ্নে এবং আসানসোল-রানিগঞ্জ কয়লা অঞ্চলে প্রভাবশালী। ফেব্রুয়ারির শুরুতে ইডি কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে কলকাতা, দুর্গাপুর ও আসানসোলের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়েছিল। সেই অভিযানের অংশ হিসেবে ধৃতদের ইডির দফতরে ডাকা হয়।
একই দিনে বুদবুদ থানার ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়। এছাড়া জামুড়িয়ার ব্যবসায়ী রমেশ বনসলের বাড়ি থেকে প্রায় এক কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়। ইডির এই অভিযান প্রকাশ্যে এলেই কয়লা পাচারের সংক্রান্ত মামলায় গুরুত্ব বাড়িয়েছে। তবে ধৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ এখনও স্পষ্ট নয়।
পশ্চিম বর্ধমানের কয়লা শিল্পে সম্প্রতি এই ধরনের অভিযানের ধাক্কা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ইডির আধিকারিকরা বলছেন, এই অভিযান দিয়ে যারা অবৈধভাবে কয়লা পাচার বা দুর্নীতি করছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই গ্রেফতারি ঘটনায় আসানসোল-রানিগঞ্জ এলাকায় প্রভাবশালী কয়লা ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। ধৃতদের পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া আদালতের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। ইডি সূত্রে জানা গেছে, আরও কিছু অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ চলমান রয়েছে।
এই ঘটনা কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার কার্যক্রমে পশ্চিমবঙ্গের কয়লা শিল্পে নতুন বিতর্ক ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় এবং রাজ্য রাজনৈতিক মহলও এই গ্রেফতারিকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।
