
মুর্শিদাবাদে বড়সড় অভিযানে নেমে প্রায় ১০ কোটিরও বেশি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল জেলা পুলিশ। জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান ও ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের মেয়ে, জামাই ও তাঁদের শ্বশুরবাড়ির একাধিক সম্পত্তি এই অভিযানের আওতায় এসেছে। পাশাপাশি প্রায় ১৫টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও ফ্রিজ করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা থেকে লালগোলা থানা এলাকায় একযোগে অভিযান চালিয়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যা ঘিরে জেলাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশের দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পাচারের অভিযোগ সামনে আসছিল। সেই সূত্র ধরেই NDPS আইনে তদন্ত চালিয়ে এই সম্পত্তিগুলি জব্দ করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত তালিকায় রয়েছে লালগোলা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি লজ, বলরামপুর এলাকার একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নলডহরি গ্রামের একটি বসতবাড়ি এবং একটি লিচু বাগান। পুলিশের মতে, এই সম্পত্তিগুলির সঙ্গে বেআইনি লেনদেনের যোগ থাকতে পারে।
অন্যদিকে, এই অভিযানের তীব্র বিরোধিতা করেছেন হুমায়ুন কবীর ও তাঁর পরিবার। হুমায়ুন কবীরের মেয়ে নাজমা সুলতানার অভিযোগ, এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। তাঁর দাবি, বাবার রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই পরিবারকে নিশানা করা হচ্ছে। হুমায়ুন কবীরও একই সুরে বলেছেন, আগে তৃণমূলে থাকার সময়ে এই ধরনের অভিযান হয়নি, এখন নতুন দল গড়ার পরই তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অবশ্য এই অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দলের নেতাদের বক্তব্য, পুলিশ আইন অনুযায়ী কাজ করছে, এর সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক প্রভাব নেই। জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে এবং প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সব মিলিয়ে, এই অভিযান ঘিরে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
