
দিল্লি: বাজেট অধিবেশনের মাঝেই নতুন করে রাজনৈতিক ঝড় উঠল লোকসভায়। স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তাঁকে অপসারণের দাবিতে ‘মোশন ফর রিমুভাল’-এর নোটিস জমা দিল বিরোধী শিবির। মঙ্গলবার লোকসভার সেক্রেটারি জেনারেল উৎপল কুমার সিং সেই নোটিস গ্রহণ করেছেন বলে সূত্রের খবর। একই সঙ্গে জানা গেছে, অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত লোকসভায় না আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্পিকার ওম বিড়লা।
বিরোধীদের অভিযোগ, গত কয়েক মাসে একাধিক ঘটনায় স্পিকার প্রকাশ্যে নিরপেক্ষতার সীমা লঙ্ঘন করেছেন। নয় পাতার চিঠিতে চারটি নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ করে অপসারণ প্রক্রিয়া শুরুর দাবি জানানো হয়েছে। কংগ্রেস, ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টি, শিবসেনা (ইউবিটি), এনসিপি (এসপি) সহ বিভিন্ন দলের মোট ১১৭ জন সাংসদ প্রস্তাবে সই করেছেন। তবে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সই নেই। তৃণমূল কংগ্রেসও এখনও প্রস্তাবে সমর্থন জানায়নি।
চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, রাহুল গান্ধীকে একাধিকবার বক্তব্য রাখতে না দেওয়া, বিক্ষোভের সময় আট কংগ্রেস সাংসদকে সাসপেন্ড করা, বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের মন্তব্যে হস্তক্ষেপ না করা এবং এক মহিলা বিরোধী সাংসদের আচরণকে ‘অঘটনের চেষ্টা’ হিসেবে চিহ্নিত করা এই ঘটনাগুলিই পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ।
এদিকে সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেণ রিজিজু বিরোধীদের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি ৪ ফেব্রুয়ারির একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এনে বিরোধীদের দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। কংগ্রেসের পাল্টা প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত না থাকলে তাঁকে আক্রমণের অভিযোগ উঠল কীভাবে?
সংবিধানের ৯৪(সি) অনুচ্ছেদ মেনে এর আগে তিনবার স্পিকার অপসারণের চেষ্টা হলেও কোনওবারই সফল হয়নি। এবার কি নজির বদলাবে? আপাতত অচলাবস্থা কাটার বদলে আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কাই প্রবল।
