
বাংলাদেশের নির্বাচনী উত্তেজনার মাঝে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর নতুন করে সন্ত্রাসের ছায়া পড়ল। সিলেটের মৌলভীবাজার এলাকায় ভোটের একদিন আগে রতন সাহুকার নামে এক ১৮ বছরের হিন্দু যুবককে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, রতনের হাত-পা বাঁধা ছিল এবং দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। দেহ উদ্ধার করার সময় এখনও ক্ষতস্থল থেকে রক্ত ঝরছিল। নিহত যুবক পেশায় চা শ্রমিক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রের খবর, রতনের সহকর্মীরা জানান, তাকে হয়তো ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে নয়, বরং ভোট সংক্রান্ত হিংসার অংশ হিসেবে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে, তবে হত্যার প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি।
এর আগে ময়মনসিংহে আরেক হিন্দু ব্যবসায়ী সুষেণচন্দ্র সরকার (৬২)কে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ ওঠে। তিনি পেশায় চাল ব্যবসায়ী ছিলেন এবং দুষ্কৃতীরা তাঁর দোকান থেকে লক্ষাধিক টাকা চুরি করেছে। এই ঘটনায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার ব্যবস্থা শক্ত হলেও সংখ্যালঘুদের প্রতি সুরক্ষা কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনের মাত্র একদিন আগে এমন হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক এবং সামাজিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, এই ধরনের ঘটনার ফলে সাধারণ মানুষ ভয় পাচ্ছে এবং ভোটে অংশগ্রহণেও প্রভাব পড়তে পারে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা হত্যাকাণ্ডের সব দিক খতিয়ে দেখছে এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তবে স্থানীয়রা মনে করছেন, শুধু তদন্ত নয়, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বাংলাদেশে ভোটের আগে এমন সন্ত্রাস ও হত্যাকাণ্ড সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসন এবং নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ বাড়ছে, যাতে ভোট শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
