
কলকাতা: রাজ্য সরকারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের দ্বন্দ্ব নতুন মাত্রা পেয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার এখনও নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় অফিসার তথ্য দিতে পারেনি। মঙ্গলবারের শুনানির ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে হঠাৎ করে রাজ্য সরকার ৮৫০৫ জন অফিসারের নাম হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়েছিল। তবে সেই তালিকার মধ্যে ২ হাজার জনের বিস্তারিত তথ্য এখনও কমিশনের কাছে পৌঁছায়নি।
এই তালিকার আরও একটি সমস্যা হলো, ৫০০ জন অফিসার ইতিমধ্যেই সহকারী রিটার্নিং অফিসার (এআরও) হিসেবে কাজ করছেন। এদের কীভাবে একই সময়ে মাইক্রোঅবজারভার হিসেবে নিযুক্ত করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কমিশন জানিয়েছে, শুধু নাম পাঠানো যথেষ্ট নয়, অফিসারদের ব্যাকগ্রাউন্ড, বর্তমান দায়িত্ব এবং যোগ্যতার তথ্য দিতে হবে, যা এখনও অনুপস্থিত।
বিজেপি নেতারা রাজ্য সরকারের প্রতি তীব্র সমালোচনা করেছেন। সজল ঘোষ বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও রাজ্য সরকারের এই অসঙ্গতি নির্বাচনের স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ করছে। যারা ইতিমধ্যেই এআরও, তাদের নাম মাইক্রোঅবজারভার হিসেবে দেওয়া হয়েছে।”
সুপ্রিম কোর্টও শোনা শুনানি চলাকালীন রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছিল, ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অফিসার তালিকা জমা দিতে হবে। কিন্তু রাজ্য ৭ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ তালিকা দায়, যা আদালতের নির্দেশ অমান্য বলে দেখা হচ্ছে। আদালত চাইছিল বিতর্ক এড়াতে, কিন্তু রাজ্যের এই আচরণ নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।
কমিশনের দাবি, সময়মতো তথ্য না পাওয়ায় নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হচ্ছে। এই সংঘাত ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ইস্যু শুধু প্রশাসনিক ত্রুটি নয়, বরং রাজ্য ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েনকেও প্রতিফলিত করছে।
রাজ্যের তরফ থেকে এখনও বিষয়টি নিয়ে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা আসেনি। নির্বাচন কমিশনও চাইছে, সমস্ত অফিসারের বিস্তারিত তথ্য শীঘ্রই পাওয়া যায়, যাতে ভোট প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ ও সুসংগতভাবে পরিচালিত হয়।
এই পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাজ্য এবং কমিশনের মধ্যে সংঘাত শেষ হতে এখনো বাকি।
