
নয়া দিল্লি: বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি’র জয় নিশ্চিত হওয়ার পরেই ভারতের সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মালদহ, মুর্শিদাবাদ, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি জেলার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে পরিস্থিতি মনিটর করছে দেশীয় গোয়েন্দা সংস্থা। নির্বাচন ফলাফলে জামাত-এ-ই-ইসলামি সংগঠন কিছু এলাকায় প্রভাব বাড়ায় ভারতীয় সংস্থাগুলি সতর্ক হয়েছে।
জানা যায়, ইউনূস জামানের সময় এই সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো ছিল জঙ্গি কার্যকলাপ ও পাকিস্তানের আইএসআই-এর কার্যক্ষেত্র। এবার বিএনপি ক্ষমতায় আসলেও, নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তীয় আসন জামাতের দখলে থাকায় গোয়েন্দারা আশঙ্কা করছেন, ভারতের বিরুদ্ধে অপ্রীতিকর কার্যক্রম চালানো হতে পারে।
ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা যেমন RAW, IB ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF) ইতিমধ্যেই উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তবে সীমান্তের ওপারে জামাত-নিয়ন্ত্রিত আসনগুলোর কারণে সতর্কতা ও নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। সূত্রের খবর, এই এলাকাগুলোতে জঙ্গি বা মৌলবাদী কার্যক্রমের পুনরায় সঞ্চালনা রোধে বিশেষ মনিটরিং চলছে।
নির্বাচনের ফলাফলের পর প্রায় ৭৮ শতাংশ সীমান্তবর্তী আসন জামাতের দখলে যাওয়ায়, স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আসন্ন এক-দুই মাসে পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে নতুন করে বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা আছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকার এবং ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রভাবও সীমান্ত নিরাপত্তার ওপর নজরদারি বাড়াতে প্রয়োজনীয়। গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এই এলাকায় ভারত-বিরোধী কার্যক্রম প্রতিরোধে সর্তক এবং সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
সীমান্তবর্তী এই গ্রামগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্ত করা এবং স্থানীয় জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
