
বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ জয়লাভ করেছে। নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী পদে আসন পেতে চলেছেন তারেক রহমান। এই বিজয়কে স্বাগত জানাতে ফোন করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মোদি তারেককে ফোনে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই নির্বাচনের ফল বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা এবং গণতান্ত্রিক বিশ্বাসের প্রতিফলন।
ফোনে মোদি আরও বলেছেন, দুটি প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের জনগণ এবং বাংলাদেশের জনগণের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির প্রতি ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি তারেকের প্রচেষ্টা এবং বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। মোদির সঙ্গে কথোপকথনে দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের গুরুত্বও উঠে এসেছে।
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ সাধারণ নির্বাচনে মোট ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি এবং তার জোট ২১২টি আসন জিতেছে। একক দল হিসেবে বিএনপি ২০৯টি আসন অর্জন করেছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামি ৬৮টি আসন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬টি, খেলাফত মজলিস ৩টি, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসন পেয়েছে। এই ফলাফলের মাধ্যমে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।
এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে ধরা হচ্ছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর এটি প্রথম বড় সাধারণ নির্বাচন। নির্বাচনের পর বিএনপি সমর্থকদের উদযাপন কমানোর জন্য শুক্রবার নামাজ আদায় এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।
বাংলাদেশের এই নির্বাচনের ফল দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ ভারতের নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক সম্পর্কও নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতি অনুযায়ী পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।
মোদি ও তারেকের ফোনালাপ দুই দেশের সম্পর্ককে নতুনভাবে দৃঢ় করার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় প্রভাব ফেলবে।
