
কলকাতা মেট্রোর পুরনো ব্লু লাইনে এবার বড়সড় প্রযুক্তিগত সংস্কারের পথে রেল কর্তৃপক্ষ। সুড়ঙ্গের ভিতরে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহৃত একাধিক যন্ত্র অকেজো হয়ে পড়ায় ৫৮৫ কোটি টাকার প্রকল্পে কুলিং ও ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা আধুনিকীকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী তিন থেকে সাড়ে তিন বছরের মধ্যে এই কাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে জলনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে সুড়ঙ্গের বাতাস ঠান্ডা রাখা হয়। বিভিন্ন স্টেশনের বাইরে থাকা ‘ওয়াটার কুলড চিলার’-এর সাহায্যে বিপুল পরিমাণ ভূগর্ভস্থ জল ব্যবহার করে শীতলীকরণ করা হয়। বছরে প্রায় ১৮ কোটি লিটার জল খরচ হয় বলে জানা গিয়েছে। মোট ৪৬টি কুলারের মধ্যে প্রায় ৩০টির মেয়াদ প্রায় শেষের পথে, যা ভবিষ্যতে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করছিল।
নতুন প্রকল্পে পুরনো ব্যবস্থার পরিবর্তে আরও পরিবেশবান্ধব ও শক্তি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তি বসানো হবে। টানেল ভেন্টিলেশন সিস্টেম (টিভিএস) ও এনভায়রনমেন্ট কন্ট্রোল সিস্টেম (ইসিএস) উন্নত করা হবে। মেট্রোর ইঞ্জিনিয়ারদের দাবি, এতে শুধু বিদ্যুৎ খরচ কমবে না, ভূগর্ভস্থ জলের উপর নির্ভরতাও কমবে। স্টেশন চত্বরে পরিচিত কুলিং টাওয়ারের দৃশ্যও বদলে যাবে।
এছাড়া নিরাপত্তার দিকেও জোর দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সুড়ঙ্গের মাঝামাঝি ১৪টি জায়গায় ১১০ কিলোওয়াট ক্ষমতার সেন্ট্রিফিউগাল ফ্যান সারাক্ষণ চালু থাকে, যার ফলে বিপুল বিদ্যুৎ ব্যয় হয়। নতুন ব্যবস্থায় অ্যাক্সিয়াল ফ্যান বসানো হবে, যা আগুন বা ধোঁয়া শনাক্ত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হবে। ২৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেও টানা দু’ঘণ্টা কাজ করতে পারবে এই ফ্যান।
সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রেক চালুর পর যাত্রীস্বাচ্ছন্দ্য আরও বাড়াতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। সংস্কার শেষ হলে কলকাতা মেট্রোর পুরনো লাইনে ভ্রমণ আরও আরামদায়ক ও নিরাপদ হবে বলেই আশা।
