
গতই একগুচ্ছ সরকারি বক্তব্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী দাবি করেছেন যে পশ্চিমবঙ্গ জাতীয় শিক্ষা নীতি (NEP)‑কে কার্যকর না করার জন্য প্রায় ₹10,000 কোটি কেন্দ্রীয় তহবিল রাজ্য থেকে বাদ পড়েছে। মন্ত্রী বলেন, NEP‑র ধারাবাহিক বাস্তবায়নের ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে বড় সুবিধা পাওয়া যেতে পারত, কিন্তু রাজ্য সরকারের বিরোধিতা তাকে পিছিয়ে দিয়েছে। এতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষা আধুনিকীকরণ, ডিজিটাল ক্লাসরুম, প্রশাসনিক নতুন প্রকল্পগুলো বিশাল সুবিধা পেত।
এ বিষয়ে রাজ্য শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসু কেন্দ্রের অভিযোগকে ভ্রান্ত ও ভিত্তিহীন বলে খণ্ডন করেছেন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ ইতিমধ্যেই ২০২৩‑এ একটি রাজ্য শিক্ষা নীতি গ্রহণ করেছে, যেখানে NEP‑র অনেক ধারা রাজ্য মানিয়ে নিয়েছে এবং গ্রামে‑গঞ্জে নতুন পাঠ্যক্রমও চালু হয়েছে, এমনকি AI, ডেটা সাইন্স শেখানোর মতো বিষয় যোগ করা হয়েছে। বসু দাবি করেছেন যে কেন্দ্রের ডেটা বা সংশ্লিষ্ট তথ্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে কোথাও গুটানো হয়নি।
এই বিবৃতি নিয়ে এখন রাজ্যের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে চাপ তৈরি হয়েছে। বিরোধীরা বলছেন, রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে শিক্ষা নীতির বিরোধিতা ভবিষ্যতের শিক্ষার্থীদের ক্ষতিতে পরিণত হবে এবং ভোটের আগেই এই ইস্যুটি রাজনীতি আরও উত্তপ্ত করবে।
শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কেন্দ্র‑রাজ্য দ্বন্দ্ব সাধারণ নাগরিক ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে, বিশেষত যাঁরা সরকারি ও আধা‑সরকারি স্কুলে সন্তান পাঠান। এই ইস্যু উন্নয়ন অভাবে শিক্ষার সুযোগ কমে যায়—এই ভাবেই অনেকেই ব্যাখ্যা করছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্পর্কের রাজনৈতিক প্রতিচ্ছবি।
এই বিতর্ক শিক্ষা, রাজনীতি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের এক জটিল সংকটে পরিণত হয়েছে, যা আগামী দিনে রাজ্য‑কেন্দ্র সম্পর্ক এবং ভোট‑রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলবে।
