
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ গার্মেন্টস শিল্পে ধাক্কার আশঙ্কা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। সাম্প্রতিক বাণিজ্য পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ইউরোপীয় বাজারে পোশাক রফতানি প্রায় ৪ শতাংশ কমেছে। সংখ্যাটা শুনতে ছোট মনে হলেও শিল্প মহলের মতে, এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ হতে পারে। কারণ এই খাতই দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের বড় অংশ জোগান দেয়।
রফতানিকারকদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য প্রতিযোগিতা এখন তীব্র। ভারত ও চিন তুলনামূলক কম খরচে উন্নত মানের পোশাক সরবরাহ করছে। পাশাপাশি দ্রুত ডেলিভারি ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে ক্রেতারা বিকল্পের দিকে ঝুঁকছেন। ইউরোপে চাহিদা কমে যাওয়াও পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু কম দামে পণ্য বিক্রি করলেই হবে না, গুণমান, টেকসই উৎপাদন ও পরিবেশবান্ধব প্রক্রিয়ার উপর জোর দিতে হবে। ইতিমধ্যে কিছু বড় কারখানা অটোমেশন ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থায় বিনিয়োগ শুরু করেছে। তবে ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য এই পরিবর্তন সহজ নয়।
সরকারি পর্যায়ে নতুন বাজার খোঁজা, শুল্ক নীতি পুনর্বিবেচনা এবং রফতানিতে প্রণোদনা বাড়ানোর আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, এখনই কৌশলগত সংস্কার না আনলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধাক্কা আসতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের কথায়, এই সংকটই হতে পারে পরিবর্তনের সুযোগ। প্রযুক্তি ও দক্ষতার সমন্বয়ে যদি নতুনভাবে শিল্পকে গড়ে তোলা যায়, তবে প্রতিযোগিতার বাজারেও টিকে থাকা সম্ভব। এখন দেখার, বাংলাদেশ কত দ্রুত এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে পারে।
