
চলতি বছরের শুরুতেই দেশে বেকারত্বের হার বৃদ্ধির তথ্য সামনে আসায় উদ্বেগ বাড়ছে। সরকারি সমীক্ষা অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে দেশের বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ শতাংশে। ডিসেম্বর মাসে এই হার ছিল ৪.৮ শতাংশ, ফলে এক মাসের ব্যবধানে তা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই তথ্য প্রকাশ করেছে জাতীয় পরিসংখ্যান অফিস, যা পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি মন্ত্রকর অধীনস্থ সংস্থা।
সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী, গ্রাম ও শহর উভয় ক্ষেত্রেই বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়াই এর অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। ফসল কাটার পর কৃষিক্ষেত্রে কাজের পরিমাণ কমে যাওয়া, আবহাওয়ার প্রভাব এবং কৃষির প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ার ফলে অনেক মানুষ কাজ হারিয়েছেন বা নতুন কাজ পাননি।
এছাড়াও শীতকালে নির্মাণ শিল্প, পরিবহণ, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং অন্যান্য অস্থায়ী কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও কাজের গতি কমে যায়। এর ফলে বহু মানুষ সাময়িকভাবে কাজের বাইরে চলে যান, যা বেকারত্বের হার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। রিপোর্টে শ্রমশক্তি অংশগ্রহণের হার এবং কর্মরত মানুষের অনুপাতও কিছুটা কমেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশে শিক্ষিত যুবকদের মধ্যে কর্মসংস্থানের সংকট একটি বড় সমস্যা হয়ে উঠছে। অনেকেই উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেও উপযুক্ত চাকরি পাচ্ছেন না। সরকার বিভিন্ন প্রকল্প ও উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানোর চেষ্টা করলেও বাস্তবে পরিস্থিতির খুব বেশি উন্নতি হয়নি বলে বিশেষজ্ঞদের মত।
দীর্ঘমেয়াদে বেকারত্ব কমাতে শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির ওপর আরও জোর দেওয়া প্রয়োজন। এতে ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং যুব সমাজের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
