
বাংলাদেশে আড়াই দশক পর ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আজ মঙ্গলবার বিকেলে শপথ নেবেন বিএনপি’র কোন নেতা তথা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে চলছে নব নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। তবে এই মুহূর্তে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার উপস্থিত না থাকায় শপথ বাক্য পাঠ করাবেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ২০ বছর পর বাংলাদেশের মসনদে বিএনপি সরকার।
জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এদিনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ১২০০ অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। শপথ বাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন। ভারত পাকিস্তান সহ ১৩টি দেশের রাষ্ট্র প্রতিনিধিরা তারিখের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
তবে আজ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন না ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের তরফে শুভেচ্ছা বার্তা নিয়ে যাচ্ছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। এর সঙ্গে উপস্থিত থাকছেন ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্ত্রি। জানা গিয়েছে, তিনি তারেক রহমানের হাতে ভারত সফরে আসার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণ পত্র তুলে দেবেন।
তবে প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর কোথায় বসবাস করবেন তারেক রহমান থাকবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এদিকে, ২০২৫ সালে ২৫ই ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর থেকে গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে রয়েছেন তারেক। বিএনপি সূত্রে খবর, আপাতত আরও কিছুদিন তিনি সেখানেই থাকবেন। এরপর তারেকের বাসস্থান হবে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা।
মহাম্মুদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রী সভার সদস্যদের শপথ গ্রহণের আয়োজন করেছে। জানা যাচ্ছে নতুন মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন ৩৭ জন। এরমধ্যে ২৬ থেকে ২৭ জন পূর্ণ মন্ত্রী হতে পারেন। ৯ থেকে ১০ জনকে প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালে ১৫ই আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের নৃশংস হত্যার চার মাসের মাথায় রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান। তিনি পরবর্তীতে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮১ সালের মে মাসে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দলীয় নেতাদের মীমাংসা মেটাতে চট্টগ্রামে যান।আর সেখানেই বিক্ষুব্ধ সেনা সদস্যরা সেখানকার সার্কিট হাউসে ঢুকে তাকে হত্যা করে। স্বামীর অকাল মৃত্যুতে দলের হাল ধরেন প্রয়াত বিএনপি’র চেয়ার ম্যান খালেদা জিয়া। ২০০১ সালে ১০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছিলেন তারেক রহমানের মা খালেদা জিয়া। তিনি তিন দফায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এরপর আবার পদ্মা পাড়ে বিএনপি সরকার গঠন হতে চলেছে।
