
রাজ্য বাজেটে ঘোষণা হওয়া ‘যুবসাথী’ প্রকল্প ঘিরে ইতিমধ্যেই ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকার তরুণ-তরুণীদের আর্থিক সহায়তা দিতেই এই উদ্যোগ। মাসে দেড় হাজার টাকা করে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে চাকরি খোঁজার সময় আর্থিক চাপে না পড়তে হয় যুব সমাজকে। বর্তমানে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রেই ফর্ম বিলি শুরু হয়েছে, পাশাপাশি অনলাইনেও আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে।
ফর্ম ফিলআপ নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন, অনলাইন নাকি অফলাইন, কোনটা সুবিধাজনক? প্রশাসনিক মহলের মতে, অনলাইন পদ্ধতিই তুলনামূলকভাবে সহজ ও ঝামেলামুক্ত। অনলাইনে আবেদন করলে সঙ্গে সঙ্গে একটি রিসিভ কপি ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর পাওয়া যায়। ফলে আলাদা করে ক্যাম্পে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন পড়ে না। এছাড়া নথি হারানোর ঝুঁকিও থাকে না, কারণ সব তথ্য সরাসরি পোর্টালে সংরক্ষিত হয়।
অনলাইনে আবেদন করতে প্রথমে মোবাইল নম্বর দিয়ে ওটিপি ভেরিফিকেশন করতে হবে। তারপর মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড অনুযায়ী নাম, আধার নম্বর, জন্মতারিখ, লিঙ্গ, কাস্ট ও পারিবারিক তথ্য দিতে হবে। ঠিকানা অংশে জেলা, ব্লক ও গ্রামের নাম ড্রপডাউন মেনু থেকে নির্বাচন করতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে মাধ্যমিক বা সমতুল্য পরীক্ষার বোর্ড, সাল ও রোল নম্বর উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি বর্তমানে কী করছেন, সেটিও স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।
প্রয়োজনীয় নথির মধ্যে রয়েছে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড ও মার্কশিট, আধার ও ভোটার কার্ড, ব্যাঙ্ক পাসবুক বা ক্যানসেল চেক এবং কাস্ট সার্টিফিকেট। ছবি ও সই ১ এমবির মধ্যে এবং অন্যান্য নথি ২ এমবির পিডিএফ আকারে আপলোড করতে হবে। অফলাইনে আবেদন করলে নির্দিষ্ট জায়গায় ছবি লাগিয়ে ক্রস সিগনেচার করতে হয় এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ বাধ্যতামূলক। সব মিলিয়ে, দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য প্রক্রিয়ার জন্য অনলাইন আবেদনই এখন তরুণদের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠছে।
