
রাজ্যের সাত জন নির্বাচন-সংক্রান্ত আধিকারিককে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের মাঝেই মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কমিশনের নির্দেশে সাময়িক বরখাস্ত হলেও ওই আধিকারিকরা চাকরিচ্যুত হচ্ছেন না। তবে নির্বাচনের কাজে তাঁদের আর রাখা হবে না; প্রশাসনের অন্য দায়িত্বে নিয়োজিত করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্টদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করে মমতা বলেন, শাস্তিমূলক পদক্ষেপের আগে ‘শো-কজ়’ নোটিস ও তদন্ত হওয়াই নিয়ম। দলীয় শৃঙ্খলা ব্যবস্থার উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, তদন্ত ছাড়া সরাসরি সাসপেনশন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী। তাঁর কথায়, রাজ্য সরকার কমিশনের নির্দেশ মেনেছে বটে, কিন্তু অভিযুক্তদের বক্তব্য শোনার সুযোগ না দেওয়া উচিত হয়নি। প্রয়োজনে তাঁদের পদোন্নতিও দেওয়া হতে পারে এমন আশ্বাসও দেন তিনি।
উল্লেখ্য, এই সাত আধিকারিক ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় এইআরও হিসেবে কাজ করছিলেন। কমিশনের অভিযোগ, তাঁদের বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও দায়িত্বে গাফিলতির মতো অভিযোগ রয়েছে। কমিশন সরাসরি সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিলে প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়ায়। তবে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন এবং তাঁদের পাশে রাজ্য সরকার রয়েছে।
এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা। তাঁর বক্তব্য, ভোট ঘোষণার আগে কেন এমন পদক্ষেপ— তা স্পষ্ট করা উচিত। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনিক স্তরে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং কিছু সম্প্রদায়কে টার্গেট করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, গণতান্ত্রিক অধিকার খর্বের চেষ্টা হলে সরকার চুপ করে থাকবে না। সব মিলিয়ে, কমিশনের সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজ্য-কমিশন সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
