
সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসায় বেনজির অস্এপচারে মিললো সাফল্য। পূর্ব ভারতে প্রথম হাড় প্রতিস্থাপন করে নজির গড়ল আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। এবারে মৃত ব্যক্তির হাড় জুড়ল জীবিত মানুষের শরীরে! শুনতে অবাক লাগলেও বাস্তবে সত্যিই ঘটনাই বটে। বলা চলে অসাধ্য সাধন আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের।
পূর্ব ভারতে এই প্রথম মৃত ব্যক্তির হাড় প্রতিস্থাপন হল কলকাতায়। বিরাট এই সাফল্যের জন্য বৈঞ্গানিক পদ্ধতিতে বিশেষভাবে চেন্নাই থেকে সংরক্ষন করে আনা হয় ওই মৃত ব্যক্তির হাড়। এই সাফল্যের জন্য আড়াই লাখ টাকা খরচ করল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। যার ফলে উপকার পেলেন উত্তর ২৪ পরগনার বিড়ার বাসিন্দা ৩১ বছর বয়সি যুবক।
নাম রিয়াজুদ্দিন মণ্ডল, ২০২৩ সালের ঘটনা। একটি লরি দুর্ঘটনায় থাইয়ের হাড় গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে গিয়েছিল। পায়ের হাড় নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি চলাফেরা করতে পারতেন না। প্রথমে প্লাস্টিক সার্জারি করা হয়। তারপর ২০২৪ সালে দুর্ঘটনাগ্রস্ত ব্যক্তির শরীরের হাড়ের অংশ (অটোগ্রাফট) দিয়ে ক্ষত পূরণ করবার চেষ্টা হয়। তেমন কোন সাফল্য মেলেনি । এমন পরিস্থিতিতে উপায় ছিল দুটি।প্রথমত, দুর্ঘটনাগ্রস্ত পা কেটে বাদ দেওয়া। দ্বিতীয়ত, সদ্য মৃত কোনো দাতার থাইয়ের হাড়ের অংশ দিয়ে পুনর্গঠন করা।
ওই ধরনের হাড় শহরে না মেলায় দেশে এই বিষয়ে যে সংস্থা কাজ করে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আরজি কর কর্তৃপক্ষ। রিজাউদ্দিনের পায়ের ঠিক যতটা অংশ পূরণ হওয়া দরকার, তার থ্রি ডি প্রিন্ট করা হয়। সেটি কোম্পানিকে পাঠিয়ে আনানো হয় মৃত ব্যক্তির মাপের দাতার হাড়। রাজ্য সরকার এই বাবদ ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা খরচ বহন করে। এরপর গ্রহীতার পায়ে সেটাই প্রতিস্থাপিত করা হয় নিখুঁতভাবে। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন বলে জানা গিয়েছে। রাজ্যের প্রথম ‘বোন গ্রাফটিং’ (Bone Grafting) বা অস্থি প্রতিস্থাপনের এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হলো।
তবে এই ঘটনার ফলে হাড় প্রতিস্থাপনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।
