
মালদহের সুজাপুরে ফের এক বিএলও–র মৃত্যু সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ৫৬ বছর বয়সী মহম্মদ আনিকুল আলম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে স্থানীয় বেসরকারি নার্সিংহোমে মারা যান। পরিবার ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার অতিরিক্ত চাপই তাঁর মানসিক ও শারীরিক ভেঙে পড়ার মূল কারণ।
আনিকুল আলম পেশায় ছিলেন ভূগোলের শিক্ষক ও কালিয়াচক হাই স্কুলের কর্মচারী। সুজাপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ১৪৪ নম্বর বুথে বিএলও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরিবার জানায়, স্ত্রী স্তালেহা খাতুনের দীর্ঘদিনের অসুস্থতা ও দুই ছেলের দায়িত্বের পাশাপাশি SIR-এর কাজের চাপ তাঁকে অস্থির করে তুলেছিল। বুধবার তিনি খবর পান যে তাঁর বুথের ৪৩ জন ভোটারের নাম ফেরত পাঠানো হয়েছে, আর সেই তালিকায় নিজের নামও রয়েছে। এর আগে তাঁদের হেয়ারিং-এ হাজিরা দেওয়া সত্ত্বেও পুনরায় নিজের নাম দেখতে পেয়ে আনিকুলবাবু মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
প্রথমে স্থানীয় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হলেও চিকিৎসার পর ছাড়পত্র পান। কিন্তু রাত থেকে শারীরিক অবনতি হওয়ায় পুনরায় নার্সিংহোমে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনা রাজনৈতিক চাপানউতরও সৃষ্টি করেছে। তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে চাপ বাড়াচ্ছে, যা এক পরিশ্রমী বিএলও-র মৃত্যু ডেকে এনেছে। অন্যদিকে, বিজেপি পাল্টা কটাক্ষ করেছে, ‘তথ্য ভুলভাবে প্রচার করে আতঙ্ক তৈরি করছে তৃণমূল।’
মালদহে বিএলওদের উপর ভোটার তালিকা সংশোধনের দায়িত্বের চাপ আগেও সমালোচনা পেয়েছে। এই নতুন মৃত্যু প্রশাসন এবং রাজনৈতিক মহল দু’জায়গাতেই বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। আনিকুল আলমের পরিবার শোকাহত হলেও দাবি করছে, এই চাপ আর অনিয়মের সমন্বয়ই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ও মৃত্যুর মূল কারণ।
এই ঘটনায় ভোটার তালিকা সংশোধনের দায়িত্বপ্রাপ্তদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব নতুনভাবে সামনে এসেছে।
