
পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) ও শুনানি প্রক্রিয়া ঘিরে নতুন সতর্কবার্তা জারি করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কমিশনের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, নথি স্ক্যান বা আপলোড করার পদ্ধতির পার্থক্যের কারণে সফটওয়্যারে প্রদর্শিত তথ্য এনুমারেশন ফর্ম বা মাঠপর্যায়ের রিপোর্টের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে নাও যেতে পারে। এই কারণে ব্যবহারকারীদের নিজস্ব বিবেচনায় সমস্ত নথি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সম্প্রতি একাধিক অস্বাভাবিকতা প্রকাশ পায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মন্দিরবাজার কেন্দ্রে ৩ ফেব্রুয়ারি শুনানির সময় এক ভোটার মৃত্যুর আগে নথি জমা দেননি। তার ছেলে উপস্থিত হয়ে তথ্য জানান, অথচ কমিশনের সিস্টেমে পরে মৃত ভোটারের নাম আপলোড হয়ে যায় এবং জেলা ও কেন্দ্রীয় কর্মকর্তারা তা যাচাই করে ‘Found OK’ চিহ্ন দেন। অন্যদিকে ভাঙড় কেন্দ্রেও দেখা যায়, একজন ভোটার বাবার নামের হিসেবে জমা দেওয়া নথি এআই-জেনারেটেড ভুয়ো ছবি ও লোগোসহ। এর পরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নথি গ্রহণযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
কমিশনের নোটে বলা হয়েছে, বিএলও, ইআরও বা এইআরও যারা নথি স্ক্যান ও আপলোড করেন, তাঁদের ব্যবহৃত পদ্ধতির ভিন্নতার কারণে ডিজিটাল বিশ্লেষণ ও আসল কাগজপত্রের মধ্যে পার্থক্য দেখা দিতে পারে। তাই ভোটার তালিকা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে শুধু সফটওয়্যারের তথ্যের ওপর নির্ভর না করে মাঠের রিপোর্ট ও জমা নথিও সমান গুরুত্ব পাবে।
সাম্প্রতিক অস্বাভাবিকতার প্রেক্ষাপটে কমিশনের সতর্কবার্তাকে প্রশাসনিক মহলে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জন্য উদ্বেগজনক, তাই নথি যাচাইয়ের প্রতিটি ধাপ আরও সতর্কভাবে সম্পন্ন করা জরুরি।
এই সতর্কবার্তা ভোটার ও কর্মকর্তাদের উভয়কেই সচেতন থাকার আহ্বান জানাচ্ছে, যাতে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে কোনো ধরনের ত্রুটি বা অনিয়ম না থাকে।
