
৪০-এর পরে পুরুষদের শরীর ও মনের পরিবর্তন অস্বাভাবিক নয়। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এই বয়সে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ধীরে ধীরে কমতে থাকে, যা শারীরিক ও মানসিক অনেক পরিবর্তনের পেছনে মূল কারণ। চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী ও ডায়াবিটিস বিশেষজ্ঞ অভিজ্ঞান মাঝি জানাচ্ছেন, পুরুষদের অ্যান্ড্রোপজ় বা ‘লেট-অনসেট হাইপোগোনাডিজ়’ এই সময় থেকেই শুরু হয়। প্রতি বছর টেস্টোস্টেরনের মাত্রা প্রায় ১ শতাংশ করে কমে, যা পেশি ক্ষয়, ক্লান্তি, ভিসারাল ফ্যাট জমা, যৌন ইচ্ছা হ্রাস, মেজাজ পরিবর্তন, ব্রেন ফগ এবং আত্মবিশ্বাসের অভাবের মতো সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
শরীরের ছোটখাট এই বদল শুধু দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে না, বরং হার্ট, ডায়াবিটিস এবং ফ্যাটি লিভারের মতো বড় রোগের ঝুঁকিও বাড়ায়। টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে গেলে হাড়ও ভঙ্গুর হয়ে যায়, ফলে অস্টিওপোরোসিসের সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে যারা ধূমপান করেন, অতিরিক্ত মদ্যপান করেন, শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় বা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।
চিকিৎসকেরা ৪০-এর পরে বছরে অন্তত একবার স্বাস্থ্যপরীক্ষার পরামর্শ দিচ্ছেন। হরমোন সংক্রান্ত পরীক্ষা, ইসিজি, লিপিড প্রোফাইল, ভিটামিন ডি৩ এবং লিভারের কার্যক্ষমতা যাচাই করাও জরুরি। টেস্টোস্টেরনের উল্লেখযোগ্য ঘাটতি ধরা পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শে রিপ্লেসমেন্ট থেরাপিও করা যেতে পারে।
জীবনযাপনে কয়েকটি পরিবর্তন স্বাস্থ্য রক্ষায় সাহায্য করে। পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত হাঁটাহাটি ও শরীরচর্চা করা, ধূমপান ও মদ্যপানে সীমা রাখা, অতিরিক্ত ভাজাভুজি এড়িয়ে চলা, মনমেজাজ ভালো রাখতে যোগব্যায়াম ও প্রাণায়াম করা এবং যথেষ্ট ঘুম ও বিশ্রাম নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন, এই বয়সে শরীর-মনের পরিবর্তনকে শুধু পরিশ্রম বা মানসিক চাপের সঙ্গে যুক্ত করা ভুল। স্বচ্ছ ধারণা থাকা ও সঠিক সচেতনতা থাকলে পুরুষরা স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে ও মানসিক ও শারীরিক শক্তি বজায় রাখতে পারবেন।
৪০-এর পর এই ধরনের সচেতনতা শুধুই শরীরকে সুস্থ রাখে না, বরং যৌন জীবন ও আত্মবিশ্বাস বজায় রাখতেও সহায়তা করে। তাই সময়মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং জীবনযাপনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা প্রতিটি পুরুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
