
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কারের ক্ষেত্রে বাংলাকে বরাবরই বঞ্চনা করা হচ্ছে। গত বছর তাঁর একটি বই মনোনীত হওয়ায় রাজ্যের কোনও সাহিত্যিককে পুরস্কার দেওয়া হয়নি, যা অতীতের ৫২ বছরে নজিরবিহীন। শনিবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এবং বঙ্গভূষণ সম্মাননা অনুষ্ঠানে মমতা বলেন, “আমার বই মনোনীত হওয়ায় বাংলাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। আমি কোনো উপহার পাওয়ার জন্য লালায়িত নই, মানুষের স্নেহই আমার কাছে সবচেয়ে বড় উপহার।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেছেন, এই বছরও কোনও পশ্চিমবঙ্গীয় সাহিত্যিককে পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন বাংলাকে এমনভাবে বঞ্চনা করা হচ্ছে। মমতা নাম না করে কেন্দ্রীয় সরকারের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “বাংলা ভাষা আপনাদের দয়ায় আসেনি। ১৯৫০ সালে সংবিধানে বাংলা স্বীকৃত ভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। বাংলার সাহিত্য, গান, কবিতা, চলচ্চিত্র, সংস্কৃতি ও সংস্কৃতিকে আপনি অবহেলা করছেন কেন?”
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় রাজ্যের অবদান অপরিসীম। তাঁর বক্তব্য, অন্যান্য রাজ্যের আঞ্চলিক ভাষাকে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও বাংলাকে ‘বঞ্চিত’ করা হয়েছে। মমতা বলেন, “ধ্রুপদী সংস্কৃতিতে বাংলা সর্বাধিক সমৃদ্ধ। আমরা দিল্লিতে গবেষণার মাধ্যমে বাংলার সাহিত্যকে পাঠিয়েছি, যা অস্বীকার করা যাবে না। প্রমাণ সবই আছে।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য সমসাময়িক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু বিজেপিশাসিত রাজ্যে বাঙালিদের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। বাংলার প্রতি বঞ্চনার অভিযোগ রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল বারবার তুলে ধরছে। মমতা এ বারও বঙ্গভূষণ ও বঙ্গবিভূষণ সম্মাননা প্রদানের সময় এই অভিযোগকে পুনরায় উস্কে দিলেন।
মমতার বক্তব্যে দেখা যাচ্ছে, তিনি বাংলার সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে অবহেলার বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিরোধ করছেন। তাঁর বক্তব্য কেবল সাহিত্যই নয়, সাংস্কৃতিক অধিকার এবং ভাষার মর্যাদার প্রতিও সতর্কবার্তা দিচ্ছে।
