
মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত আমদানি শুল্ক বাতিল করে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত আইনজীবী নীল কাত্যালের যুক্তি ভিত্তিতে। প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত সলিসিটার জেনারেল কাত্যাল ট্রাম্প প্রশাসনের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন, যেখানে ‘ইন্টারন্যাশনাল এমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’ ব্যবহার করে প্রায় সব বাণিজ্য অংশীদারের উপর শুল্ক চাপানো হয়েছিল। তাঁর যুক্তি ছিল, এই শুল্ক অসাংবিধানিক ও অন্যায্য কর ছাড়া কিছু নয়।
৬-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস স্পষ্ট করেছেন, প্রেসিডেন্টের আমদানি নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা থাকলেও তা দিয়ে কর বা শুল্ক আরোপের অধিকার নেই। সংবিধান অনুযায়ী কর আরোপের ক্ষমতা একমাত্র কংগ্রেসের। রায়ের পর কাত্যাল বলেন, “আজ আদালত আইনের শাসনের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। প্রেসিডেন্ট শক্তিশালী হতে পারেন, কিন্তু সংবিধান তার চেয়েও শক্তিশালী।”
নীল কাত্যাল শিকাগোয় জন্ম, ভারতীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান। ডার্টমাউথ কলেজ ও ইয়েল ল’ স্কুল থেকে শিক্ষা গ্রহণের পর তিনি বারাক ওবামা প্রশাসনের আমলে ভারপ্রাপ্ত সলিসিটার জেনারেল নিযুক্ত হন। সুপ্রিম কোর্টে ৫০টিরও বেশি মামলায় সফল যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। তিনি বর্তমান সময়ে মিলব্যাঙ্ক এলএলপি-র অংশীদার এবং জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনকেন্দ্রের অধ্যাপক।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই রায় ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্টদের জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে একতরফা শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে স্পষ্ট সীমারেখা টেনে দিয়েছে। আদালতের বাইরে দাঁড়িয়ে কাত্যাল বলেন, “সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষও সংবিধান ভাঙতে পারেন না এটাই আমেরিকার বিশেষত্ব।”
সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতে, এই রায়ের ফলে ভারতকে বাণিজ্য চুক্তি বা প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বড় আলোচনায় কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে সুপ্রিম কোর্টের এই রায় প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত করার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
