
পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীরা ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা নিয়ে আবারও সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। অভিযোগ, রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের পূর্বের নির্দেশ অমান্য করেছে। ৫ ফেব্রুয়ারি আদালতের নির্দেশ ছিল, রাজ্যকে ৬ মার্চের মধ্যে চার সদস্যের কমিটি গঠন করে বকেয়া ডিএ মেটানোর পদক্ষেপ নিতে হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও এখনও কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এজন্য কর্মচারীরা আদালতের কাছে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অবমাননার অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, বকেয়া ডিএ-এর ৭৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের সঙ্গে কমিটি আলোচনা করবে এবং প্রথম কিস্তি ৩১ মার্চের মধ্যে প্রদান করতে হবে। মোট বকেয়া ডিএ, যা ১০০ শতাংশের সমান, তার বাকি অংশ ১৪ এপ্রিলের মধ্যে সমাপ্ত করতে হবে। প্রতিটি কিস্তি কার্যকরভাবে কর্মীদের পৌঁছেছে কিনা তা নজর রাখবে গঠিত কমিটি।
মুখ্য সচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর নেতৃত্বে রাজ্য সরকার পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করলেও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। কর্মচারীদের দাবি, মহার্ঘ ভাতা কোনো দান নয়, এটি কর্মীদের আইনি অধিকার, যা মুদ্রাস্ফীতি থেকে রক্ষা করার জন্য অপরিহার্য।
২০০৮ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত পঞ্চম পে কমিশনের আওতায় জমে থাকা সমস্ত বকেয়া ডিএ কর্মীদের মিটিয়ে দিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত পদক্ষেপ না নেওয়ায় এই মামলায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ তুলেছেন সরকারি কর্মচারীরা।
বকেয়া ডিএ মেটানো আর দেরি হলে, সুপ্রিম কোর্টের নজরে রাজ্য সরকারের প্রতি কঠোর পদক্ষেপের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে কর্মচারীদের ক্ষোভ ও আইনি লড়াই ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। এই মামলা শুধু বকেয়া ভাতা নয়, সরকারি কর্মচারীদের অধিকার ও সুপ্রিম কোর্টের নীতিমালা মেনে চলার বিষয়ক প্রাসঙ্গিকতার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়, রাজ্য সরকার কত দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এবং এই আইনি লড়াই কবে শেষ হবে। কিন্তু ইতিমধ্যেই সরকারি কর্মচারীদের দাবি, তাদের অধিকার রক্ষা এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পালন নিশ্চিত করতে আইনি লড়াই অব্যাহত থাকবে।
