
টলিউড অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর বনগাঁ শো নিয়ে বিতর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। আইনি নোটিসের পর এবার সরাসরি পুলিশের দ্বারস্থ হলেন অনুষ্ঠানের আয়োজক তনয় শাস্ত্রী। অভিযোগের ভিত্তিতে বনগাঁ থানায় এবং পুলিশ সুপারের কাছে মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তনয় শাস্ত্রী দাবি করেছেন, মিমি চক্রবর্তীর কারণে তাঁর সম্মানহানি ঘটেছে। পাশাপাশি, অনুষ্ঠান চুক্তি অনুযায়ী না হওয়ার কারণে প্রদত্ত পারিশ্রমিক ২ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা ফেরত চাওয়া হয়েছে। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, মিমি পারিশ্রমিক গ্রহণ করলেও নির্ধারিত সময়মতো অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি, যার ফলে অনুষ্ঠান আংশিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
এর আগে, তনয় শাস্ত্রী মিমিকে আইনি নোটিস পাঠিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। নোটিসে উল্লেখ ছিল, যদি ক্ষমা না চাওয়া হয়, তাহলে মিমির বিরুদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে। তবে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে, কারণ শো-পরবর্তী ঘটনায় তনয়, তাঁর ছেলে এবং এক প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে পুলিশি মারধর ও সরকারি কাজে বাধার অভিযোগও আসে। বনগাঁ মহকুমা আদালত তিনজনকেই জামিন দেন।
তনয় শাস্ত্রী জানান, মিমি তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েছেন এবং তিনি সত্যের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, পুলিশি এফআইআর-এর আগে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু নতুন অভিযোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে, যখন মিমি প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। তবে অনুষ্ঠান চলাকালীন বিশৃঙ্খলা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির অভিযোগ তুলে মিমি আয়োজক তনয় শাস্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন, যার ভিত্তিতে তনয় গ্রেফতার হন। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি পাল্টা আইনি পদক্ষেপ নেন, যা নতুন বিতর্কের আগুন আরও বাড়িয়ে দেয়।
উল্লেখযোগ্য, তনয় শাস্ত্রী মিমিকে ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন। অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময় অনুযায়ী রাত সাড়ে ৯টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও মিমি সাড়ে ১১টায় উপস্থিত হন। ফলে অনুষ্ঠান সময়মতো শেষ না হওয়ায় আয়োজকের ক্ষতি হয়।
এই ঘটনায় টলিউডের আলোচনায় ফের মিমি চক্রবর্তীর নাম উঠে এসেছে। আইনি জটিলতা এবং নতুন অভিযোগের কারণে শো-বিতর্ক এখন পুলিশি পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এখন দেখার বিষয়, দুই পক্ষের মধ্যকার লড়াই কোন পথে এগোয় এবং মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে নতুন আইনি পদক্ষেপ কী প্রভাব ফেলে।
এই বিতর্ক শুধু বিনোদন দুনিয়ায় নয়, সামাজিক মাধ্যমে এবং সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
