
পশ্চিমবঙ্গে ভোটের মুখে নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার (Rajeev Kumar) ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumder) এর মধ্যে। কয়লাকাণ্ড ও গরুপাচারের মতো স্পর্শকাতর তদন্তের সঙ্গে রাজীবের নাম জড়িয়ে সুকান্ত যে ‘আপত্তিকর’ ও ‘বিদ্বেষপূর্ণ’ মন্তব্য করেছেন, সেই অভিযোগে সাত দিনের মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার নোটিস পাঠিয়েছেন প্রাক্তন পুলিশপ্রধান। নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, অন্যথায় ফৌজদারি মামলা করা হবে।
আইনি নোটিসে বলা হয়েছে, শিলিগুড়ি ও মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি এলাকায় রাজীব কুমারের চরিত্রহানি করার উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মিথ্যা বক্তব্য দিয়েছেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই বক্তৃতার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় প্রাক্তন ডিজি মানসিক চাপের মুখে পড়েছেন। নোটিস পাঠানো হয়েছে ৩০ জানুয়ারি, বালুরঘাটে।
নোটিস জানাজানি হতেই সুকান্ত বিন্দুমাত্র নমনীয় হননি। তিনি বলেন, “ওঁর ভাবমূর্তি তো জগৎবিদিত। ফাইল চুরিকাণ্ডের সময় তিনি মুখ্যমন্ত্রীর শাগরেদ হয়েছেন, হাতে হাত মিলিয়েছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ থাকলে প্রয়োজনে সেটিও প্রকাশ করব।” এছাড়া তিনি আইনি পথে লড়াই চালাবেন বলেও স্পষ্ট করেছেন।
ভোটের আগে এই সম্মুখ-সমর যুদ্ধ রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। প্রাক্তন পুলিশকর্তা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই টক্কর শুধুই ব্যক্তিগত বিবাদ নয়, বরং রাজনৈতিক বার্তা এবং ভোটের প্রভাবের কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
এখন লক্ষ্য রাজনৈতিক মহলের নজরে, রাজীব কুমারের আইনি নোটিস ও সুকান্তের জবাব ভোটের আগেই রাজ্য রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে এবং জনমতকে কোন দিকে ঠেলে দেবে।
