
বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই তীব্র হচ্ছে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজা। এই আবহেই সিপিএম নেতৃত্বকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ও আইনজীবী Kalyan Banerjee। তিনি সরাসরি সিপিএম রাজ্য সম্পাদক Mohammad Salim এবং সিপিএম নেত্রী Meenakshi Mukherjee–কে নিশানা করে দাবি করেন, দল পরিচালনার ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্বের কারণেই সিপিএমের বহু তরুণ নেতা-কর্মী ধীরে ধীরে দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
সংবাদমাধ্যমের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সেলিমের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, দলের মধ্যে একজনকে অতিরিক্ত প্রাধান্য দেওয়ার ফলেই অন্য নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। সেই কারণেই সিপিএমের একাংশের তরুণ নেতৃত্ব ধীরে ধীরে অন্য রাজনৈতিক শক্তির দিকে ঝুঁকছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উত্তরপাড়া কেন্দ্র নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, সেখান থেকে প্রার্থী হতে পারেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। যদিও এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি Communist Party of India (Marxist)। তবে সেই সম্ভাবনা ঘিরেই আগাম আক্রমণের সুর চড়িয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, যদি সত্যিই মীনাক্ষী উত্তরপাড়ায় প্রার্থী হন, তবে তাঁকে পরাজিত করা কঠিন হবে না। এমনকি তিনি আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন, সেই লড়াইয়ে জয়ের ব্যাপারে তিনি যথেষ্ট নিশ্চিত।
এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রতিক্রিয়া দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্রীয় বাহিনী যতই বাড়ানো হোক না কেন, ভোট শেষ পর্যন্ত দেয় সাধারণ মানুষই। তাই বাহিনী নিয়ে তাঁদের বিশেষ কোনও উদ্বেগ নেই। তিনি বলেন, মানুষের সমর্থনই আসল শক্তি, বাহিনী দিয়ে ভোটের ফল নির্ধারণ করা যায় না।
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই আগাম কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সূত্রের খবর। মার্চের শুরু থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানা যাচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তেমন প্রতিক্রিয়া দেয়নি All India Trinamool Congress।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আক্রমণের কেন্দ্রে ছিল আরও একটি বিষয়। সম্প্রতি সিপিএম ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন তরুণ নেতা প্রতীক উর রহমান। এই প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, সেলিমের নেতৃত্বের ধরনেই অনেক তরুণ নেতা দল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।
সব মিলিয়ে বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে রাজ্যে। নির্বাচনের আগে এই ধরনের মন্তব্য ও পাল্টা মন্তব্যে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
[22/02, 6:16 pm] Snigddha: এআই সামিট বিক্ষোভে ধৃতদের জামিন নাকচ
দিল্লিতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক এআই সামিট চলাকালীন বিক্ষোভের ঘটনায় ধৃত যুব কংগ্রেস কর্মীদের জামিনের আবেদন খারিজ করল আদালত। দিল্লির Patiala House Court জানিয়েছে, প্রতিবাদের নামে দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা যায় না। সংবেদনশীল আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানের সময় এই ধরনের আচরণ জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী বলেও পর্যবেক্ষণ করেছে আদালত।
ঘটনাটি ঘটে দিল্লির Bharat Mandapam-এ, যেখানে চলছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ এআই সামিট। সেই সময় কয়েকজন যুব কংগ্রেস কর্মী হঠাৎ করেই ভিতরে ঢুকে জামা খুলে বিক্ষোভ দেখান এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করেন। অভিযোগ, তাঁদের জামায় লেখা ছিল প্রধানমন্ত্রী ও ভারত-মার্কিন বাণিজ্যিক সমঝোতা নিয়ে সমালোচনামূলক বার্তা।
এই ঘটনার জেরে চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের নাম Krishna Hari, Kundan Yadav, Ajay Kumar এবং Narsingh Yadav। তাঁরা সবাই Indian Youth Congress-এর সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গিয়েছে। আদালতে তাঁদের জামিনের আবেদন করা হলেও তা খারিজ করে দেওয়া হয় এবং পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিদেশি প্রতিনিধিরা অংশ নেন এবং এই ধরনের অনুষ্ঠান বিশ্বমঞ্চে একটি দেশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই এমন কোনও আচরণ, যা অনুষ্ঠানকে ব্যাহত করতে পারে বা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বিপন্ন করে, তা অত্যন্ত গুরুতর বলে বিবেচিত হবে।
এছাড়াও আদালত উল্লেখ করেছে যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভিন্নমত প্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নাগরিকদের রয়েছে। তবে সেই অধিকার সম্পূর্ণ সীমাহীন নয়। সার্বভৌমত্ব, জনশৃঙ্খলা এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে এই অধিকার যুক্তিসঙ্গত সীমাবদ্ধতার আওতায় পড়ে।
পুলিশের দাবি, বিক্ষোভের সময় কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে ধৃতরা বাধা দেন এবং ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। মেডিকেল রিপোর্টে কয়েকজন পুলিশ কর্মীর আঘাত পাওয়ার ইঙ্গিতও মিলেছে বলে আদালতে জানানো হয়েছে।
তদন্তকারীদের মতে, এই ঘটনার পেছনে অন্য কেউ যুক্ত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃতদের ইলেকট্রনিক ডিভাইস পরীক্ষা, যোগাযোগের সূত্র খোঁজা এবং সম্ভাব্য অর্থের উৎস অনুসন্ধানের মতো একাধিক বিষয় তদন্তের আওতায় রয়েছে। সেই কারণেই প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশি হেফাজত প্রয়োজন বলে আদালত মনে করেছে।
সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই ধরনের প্রতিবাদী কর্মসূচি নিয়ে আদালতের কড়া অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ঘটনায় আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছে তদন্তকারী মহল।

