
ভারত সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রস্তাবিত অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হচ্ছে। চুক্তির লক্ষ্য দু’দেশের মধ্যে শুল্ক কমানো, আমদানি-রপ্তানি সহজ করা এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করা। তবে বিরোধী শিবিরের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে চুক্তিটি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
কংগ্রেসের আপত্তি কী?
প্রধান বিরোধী দল Indian National Congress দাবি করেছে, মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক ট্যারিফ নীতিতে আইনি ও নীতিগত পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে আগের শুল্ক কাঠামোর ভিত্তিতে হওয়া আলোচনা এখন অচল হয়ে যেতে পারে। তাই চুক্তি “স্থগিত রেখে” নতুন করে আলোচনা করার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
লোকসভায় বিরোধী দলনেতা Rahul Gandhi অভিযোগ করেছেন, সরকার তাড়াহুড়ো করে চুক্তির দিকে এগোচ্ছে এবং এতে দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হতে পারে। তাঁর বক্তব্য, বিদেশি পণ্য কম শুল্কে বাজারে ঢুকলে দেশীয় কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়বেন।
কৃষিক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রভাব
কংগ্রেসের আশঙ্কা, কিছু মার্কিন কৃষিপণ্য কম শুল্কে ভারতে প্রবেশ করলে—
দেশীয় কৃষিপণ্যের দাম চাপে পড়তে পারে
ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন
স্থানীয় উৎপাদন কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশও মনে করছেন, এ ধরনের চুক্তিতে সুরক্ষা ব্যবস্থা (safeguard clauses) স্পষ্ট না থাকলে দেশীয় শিল্প ও কৃষি খাত প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারে।
সরকারের অবস্থান
সরকারি মহলের মতে, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার হলে রপ্তানি বৃদ্ধি, বিনিয়োগ প্রবাহ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক লাভের সুযোগ তৈরি হতে পারে। শুল্ক হ্রাসের মাধ্যমে দুই দেশের বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়বে বলেও দাবি করা হচ্ছে।
এখন কী?
চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও ঘোষণা হয়নি। রাজনৈতিক চাপ ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন দেখার। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় স্পষ্ট নীতি ও সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ।

