
দেশের অভ্যন্তরীণ বিমান পরিষেবা আরও জোরদার করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল ইন্ডিগো। সংস্থার ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৯ মার্চ থেকে নভি মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দেশের ছয়টি শহরের সঙ্গে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু করা হবে। নতুন এই রুটগুলির মধ্যে রয়েছে আমেদাবাদ, দিউ, গোয়া, রাজকোট, বেলগাঁও এবং কোলাপুর।
সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, এই রুটগুলিতে ATR ধরনের বিমান চালানো হবে। এর ফলে ছোট ও মাঝারি শহরের সঙ্গে বড় শহরের যোগাযোগ আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলগুলিতে পর্যটন ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সংস্থার ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ এবং বিভিন্ন ট্র্যাভেল এজেন্টের মাধ্যমে ধাপে ধাপে ফ্লাইট বুকিং শুরু করা হচ্ছে।
বিমান সংস্থার মতে, তাদের ATR নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে টিয়ার-২ এবং টিয়ার-৩ শহরগুলির সঙ্গে মেট্রো শহরের বিমান যোগাযোগ উন্নত করাই মূল উদ্দেশ্য। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে সংস্থা।
তবে দেশের মধ্যে নেটওয়ার্ক বাড়ালেও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে সংস্থাটি। পরিচালনগত নানা সমস্যার কারণে কয়েকটি আন্তর্জাতিক রুটে উড়ান কমানো বা সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের বোয়িং ৭৮৭-৯ ওয়াইড-বডি বিমান পরিচালনায় বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন দেশের আকাশসীমা ব্যবহারের নিয়ম বদলাচ্ছে, পাশাপাশি একাধিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী চাপও বেড়েছে। ফলে ফ্লাইটের সময়সূচিতে প্রভাব পড়ছে এবং সীমিত সংখ্যক ওয়াইড-বডি বিমান দিয়ে দূরপাল্লার পরিষেবা চালাতে চাপ তৈরি হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে কোপেনহেগেন রুটের উড়ান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি দিল্লি–ম্যানচেস্টার এবং দিল্লি–লন্ডন হিথরো রুটে সাপ্তাহিক ফ্লাইটের সংখ্যাও কমানো হয়েছে। সংস্থা জানিয়েছে, যাত্রীদের অসুবিধা কমাতে বিকল্প ফ্লাইট বা টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
ইন্ডিগোর দাবি, পরিষেবার সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখা এবং বাতিলের সংখ্যা কমাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে আবার পরিবর্তন আনা হতে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থা।
