
বহু জলঘোলার পর অবশেষে বেলডাঙা মামলার কেস ডায়েরি হাতে পেতে চলেছে NIA। পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু থেকে শুরু হওয়া নৈরাজ্য ও অশান্তির ঘটনায় প্রায় ৩৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কলকাতা হাই কোর্টে এই ঘটনা নিয়ে জনস্বার্থ মামলা হয়েছিল, যার মধ্যে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
প্রথমদিকে রাজ্য পুলিশের সঙ্গে NIA-এর অসহযোগিতার অভিযোগ ওঠে। কেস ডায়েরি হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় অন্তরায় সৃষ্টি হয়, কারণ আদালতে নথি হাতে নিতে আপত্তি জানায় NIA। অবশেষে হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, কেস ডায়েরি আজই NIA-এর অফিসে জমা দিতে হবে। এছাড়া মামলার ৭ অভিযুক্তকে NIA হেফাজতে নিয়েছে।
NIA-এর ধারণা, এই অশান্তি শুধুমাত্র স্থানীয় আবেগের ফল নয়, পরিকল্পিতভাবে ডিজিটাল উসকানি ছড়িয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা হয়েছিল। তদন্তকারীরা যাচাই করতে চাইছেন, ষড়যন্ত্রের জাল কতদূর বিস্তৃত। রাজ্য পুলিশের অসহযোগিতা ও অভিযুক্তদের আদালতে সুষ্ঠু উপস্থাপনায় বাধা দেওয়ার বিষয়ও আলোচ্য।
কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের বেঞ্চ জানিয়েছে, কেন্দ্র চাইলে NIA-এর মাধ্যমে তদন্ত করাতে পারে। একই সঙ্গে রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছে প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনী সাহায্য করতে। সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ হস্তক্ষেপ না করলেও NIA-এর তদন্তকে সমর্থন জানাচ্ছে।
এবার বেলডাঙা মামলার তদন্তের ধারা আরও তীব্র হবে, কারণ নথি হাতে পাওয়ার পর NIA পরিকল্পিতভাবে তথ্য যাচাই করে ষড়যন্ত্রের গভীরতা উন্মোচন করতে পারবে। ইতোমধ্যে রাজ্যবাসী এই মামলার ফলাফলের দিকে নজর রাখছে, কারণ এটি শুধুমাত্র আইনপ্রক্রিয়া নয়, সামাজিক শান্তি ও নিয়ন্ত্রণের প্রতিফলনও বহন করছে।
নাগরিকরা এখন gespannt যে, এই কেসের তদন্তে কোথায় পৌঁছাবে, এবং অপরাধীদের সঠিক বিচার কবে সম্ভব হবে। NIA-এর হাতে কেস ডায়েরি আসার সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
