
সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ ইস্যুতে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই বড় সিদ্ধান্তের পথে হাঁটল রাজ্য সরকার। সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-কে ১০৫ একর জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই জমিতে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ও একাধিক বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নির্দেশে গঠিত মন্ত্রিগোষ্ঠী শুক্রবার প্রথম বৈঠক করে। এই কমিটিতে রয়েছেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং ভূমি সংস্কার দফতরের প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। বিএসএফ ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থাকে জমি দেওয়ার প্রস্তাব খতিয়ে দেখতেই এই মন্ত্রিগোষ্ঠী গঠন করা হয়েছে।
সরকারি হিসেব অনুযায়ী, প্রায় ১৭ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতার বসাতে প্রয়োজন ৬৭ একর জমি। পাশাপাশি ৯টি বর্ডার আউটপোস্ট নির্মাণের জন্য লাগবে আরও ১৮ একর। এছাড়া সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকায় রাজ্যের অধীনে থাকা প্রায় ২৫ একর জমি হস্তান্তরের প্রস্তাবও অনুমোদনের পথে। জেলা প্রশাসন জমির মালিকদের থেকে প্রয়োজনীয় জমি ক্রয় করে তা বিএসএফের হাতে তুলে দেবে বলে সূত্রের খবর।
দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির অভিযোগ ছিল, রাজ্য সরকার জমি না দেওয়ায় সীমান্তে পরিকাঠামো উন্নয়ন আটকে রয়েছে এবং তার জেরেই অনুপ্রবেশ বাড়ছে। অন্যদিকে রাজ্যের শাসকদল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ভূমিকাকেই প্রশ্নের মুখে তুলেছে। এই প্রেক্ষাপটে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেন, “ঠেলায় না পড়লে বিড়াল গাছে ওঠে না। বিএসএফের একটি বিওপি করতে ১৫ থেকে ২০ একর জমি লাগে। ফলে কতগুলি বিওপি তৈরি হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। এতদিন সহযোগিতা না করে এখন চাপের মুখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” তাঁর দাবি, বিভিন্ন প্রক্রিয়া ও নথি খতিয়ে দেখার চাপ বাড়তেই এই পদক্ষেপ।
এখন মন্ত্রিগোষ্ঠীর সুপারিশ মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিললেই জমি ক্রয়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। সীমান্ত নিরাপত্তা ইস্যুতে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হয়, তা নিয়েই নজর রাজনৈতিক মহলের।
