
রাজ্যের সংশোধিত ভোটার তালিকা বা এসআইআর-এর চূড়ান্ত তালিকা ঘিরে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরাসরি সংঘাতের পথে নামল তৃণমূল কংগ্রেস। তালিকায় প্রায় ৬৪ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে আগামী ৬ মার্চ ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধরনায় বসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে এই ঘোষণা করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
২০২৪-এর ২৭ অক্টোবর রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়। আর তারপর থেকেই শাসক দল অভিযোগ করে আসছিল যে, চক্রান্ত করে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এই আশঙ্কায় গত ৪ নভেম্বর দক্ষিণ কলকাতায় মহামিছিলও করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব দিল্লির মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং মুখ্যমন্ত্রী নিজে সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে সওয়াল করেন। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় বিপুল সংখ্যক নাম বাদ যাওয়ায় এবার ‘বৃহত্তর আন্দোলনে’র পথে হাঁটল ঘাসফুল শিবির।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ৬৪ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়ার নেপথ্যে বিজেপির বেঁধে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা কাজ করছে। তিনি সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “বেশি চালাকি করতে যাবেন না। ক্ষমতা থাকলে আমার নামে মামলা করুন, আমি আদালতে আপনাদের মুখোশ খুলে দেব। যাদের নাম আপনারা বাদ দিয়েছেন, তারাই আগামী ৬ মাসের মধ্যে আপনাদের বিচারাধীন করবে।”
অভিষেক আরও দাবি করেন, এত বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম ‘অ্যাডজুডিকেশন লিস্ট’-এ বা অমীমাংসিত অবস্থায় থাকলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা বিঘ্নিত হবে। যে সমস্ত দলীয় কর্মী বা সাধারণ মানুষের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের পুনরায় ‘ফর্ম ৬’ জমা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ভোটমুখী বাংলায় এই বিপুল সংখ্যক ভোটার ছাঁটাইকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে এখন নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে।
