
ভোটের দামামা আনুষ্ঠানিকভাবে না বাজলেও ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে ‘পাখি’র চোখ করে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়ল বিজেপি। রবিবার রাজ্যের চার প্রান্ত থেকে দলের মেগা কর্মসূচি ‘পরিবর্তন যাত্রা’র সূচনা করল গেরুয়া শিবির। মেদিনীপুরের গড়বেতায় এই কর্মসূচির সূচনা করেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বাংলার জন্য ইতিমধ্যেই বিশেষ ‘ব্লু-প্রিন্ট’ তৈরি করেছে। সংগঠন মজবুত করতে এবং জনসংযোগ বাড়াতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও ভিনরাজ্যের হেভিওয়েট নেতাদের রাজ্যে পাঠানো হচ্ছে। রবিবার রাজ্যজুড়ে শুরু হওয়া এই যাত্রায় কোথাও উপস্থিত রয়েছেন জেপি নাড্ডা, কোথাও নীতিন নবীন, আবার কোথাও ধর্মেন্দ্র প্রধান। তৃণমূল সরকারকে উৎখাত করে রাজ্যে পরিবর্তন আনাই যে এই যাত্রার মূল লক্ষ্য, তা এদিন নেতাদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে।
গড়বেতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শাণান। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার যুব-বিরোধী, মহিলা-বিরোধী এবং গরিব-বিরোধী। মন্ত্রীর কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য তৎপর হয়ে উঠেছেন। এই সরকারকে অবিলম্বে সরাতে হবে। এখানে নারীদের নিরাপত্তা নেই, শিক্ষিত বেকারদের চাকরি নেই। বাংলার মানুষ এখন সুরক্ষা আর কর্মসংস্থান চায়।”
রাজ্য বিজেপি নেতারা দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছেন যে, নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়কে তোষণ করে হিন্দুদের সর্বনাশ করা হচ্ছে এবং রাজ্যের মানচিত্র বদলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এদিন ধর্মেন্দ্র প্রধানের গলাতেও সেই একই সুর শোনা গিয়েছে। তাঁর দাবি, রাজ্যের সুরক্ষা এবং হিন্দু স্বার্থ রক্ষার্থেই এই পরিবর্তন অনিবার্য।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে পাশে নিয়ে এদিন ধর্মেন্দ্র প্রধান ঘোষণা করেন, বাংলার চারটি প্রান্ত থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা রাজ্যের প্রতিটি কোণায় পরিবর্তনের বার্তা পৌঁছে দেবে।
