
মার্কিন হামলায় আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সর্বোচ্চ নেতার নাম ঘোষণা করা হল। খামেনেইর ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং প্রবীণ ধর্মতাত্ত্বিক আয়াতোল্লা আলিরেজা আরাফিকে সাময়িকভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইরানি সংবাদ সংস্থা ISNA জানিয়েছে, আরাফিকে লিডারশিপ কাউন্সিলের জুরিস্ট সদস্য হিসেবে নিযুক্ত করার পাশাপাশি সুপ্রিম লিডারের ভূমিকা পালনের দায়িত্বো অর্পণ করা হয়েছে।
কে এই আলিরেজা আরাফি?
৬৭ বছর বয়সী আলিরেজা আরাফি দীর্ঘকাল ধরে ইরানের ধর্মীয় ও প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত। তিনি বর্তমান ‘অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস’-এর ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যে পরিষদটি মূলত দেশের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে থাকে। এর আগে তিনি প্রভাবশালী ‘গার্ডিয়ান কাউন্সিল’-এর সদস্য ছিলেন, যারা নির্বাচনের প্রার্থী বাছাই এবং সংসদীয় আইন পর্যালোচনার কাজ করে। ধর্মীয় মহলে তাঁর ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা থাকলেও, তাঁকে খুব একটা বড় রাজনৈতিক শক্তি বা নিরাপত্তা বাহিনীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে গণ্য করা হয় না।
কেন এই পদটি গুরুত্বপূর্ণ?
ইরানের ধর্মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সর্বোচ্চ নেতার ক্ষমতা অপরিসীম। রাষ্ট্রের যেকোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তাঁর কথাই শেষ কথা হিসেবে গণ্য হয়। তিনি দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধান সেনাপতি এবং শক্তিশালী ‘রেভোলিউশনারি গার্ড’ (IRGC) তাঁর সরাসরি নিয়ন্ত্রণে থাকে। এই বাহিনীটিই মূলত পশ্চিম এশিয়ায় ‘অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স’ নামক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নেতৃত্ব দেয়, যা আমেরিকা ও ইসরায়েলের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ইরান এ পর্যন্ত মাত্র দুজন সর্বোচ্চ নেতাকে দেখেছে। প্রথমজন ছিলেন বিপ্লবের অগ্রনায়ক গ্র্যান্ড আয়াতোল্লা রুহুল্লা খোমেনি এবং তাঁর মৃত্যুর পর দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। খামেনেইর আকস্মিক প্রয়াণের পর এখন এক ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশটি। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কোনখানে গিয়ে দাঁড়াবে তা হয়তো শুধু সময় বলতে পারবে।
