
মাসের শুরুতেই ব্যবসায়ীদের কাঁধে বাড়তি বোঝা। ১ মার্চ থেকে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৩১ টাকা বৃদ্ধি করেছে দেশের তেল বিপণন সংস্থাগুলি। নতুন দামে কলকাতায় ১৯ কেজির সিলিন্ডার কিনতে খরচ হবে ১৮৭৫ টাকা ৫০ পয়সা। রবিবার থেকেই এই দাম কার্যকর হয়েছে। তবে গৃহস্থালির ১৪.২ কেজির রান্নার গ্যাসের দামে আপাতত কোনও পরিবর্তন হয়নি; আগের মতোই ৮৭৯ টাকাতেই মিলবে সিলিন্ডার।
প্রতি মাসের প্রথম দিন আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দর এবং মুদ্রা বিনিময় হারের ওঠানামা বিচার করে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে তেল সংস্থাগুলি। মার্চ মাসেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও জ্বালানির বিশ্ববাজারে চাপের জেরে এই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। এর ফলে হোটেল-রেস্তোরাঁ, মিষ্টির দোকান, ছোট খাবারের দোকান ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের খরচ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা।
গত বছরের শেষ দিক থেকেই বাণিজ্যিক গ্যাসের দামে অস্থিরতা দেখা যায়। ২০২৫ সালের অক্টোবরে সিলিন্ডার পিছু ১৫ টাকা বৃদ্ধি হয়েছিল। নভেম্বরে সামান্য ৫ টাকা কমলেও ডিসেম্বর থেকে আবার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এক ধাক্কায় ১১১ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছিল। ফেব্রুয়ারির ১ তারিখে আরও ৪৯ টাকা বৃদ্ধি পায় ১৯ কেজির সিলিন্ডারের দাম। সেই ধারাবাহিকতায় মার্চেও বাড়ল ৩১ টাকা।
যদিও গৃহস্থালির সিলিন্ডারের দাম অপরিবর্তিত থাকায় সাধারণ পরিবারগুলি আপাতত কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বাড়লে তার প্রভাব পরোক্ষভাবে ভোক্তাদের উপরই পড়ে। হোটেল বা রেস্তোরাঁয় খাবারের দাম বৃদ্ধি, মিষ্টি বা বেকারি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, সব ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত খরচের চাপ গ্রাহকদের বহন করতে হতে পারে।
ব্যবসায়ী মহলের একাংশের দাবি, পর্যায়ক্রমিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে ছোট ব্যবসাগুলি সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ছে। বিক্রি না বাড়লে লাভের মার্জিন কমে যাচ্ছে। অনেকেই বিকল্প জ্বালানি বা খরচ কমানোর উপায় খুঁজছেন। তবে আন্তর্জাতিক বাজার স্থিতিশীল না হলে আগামী মাসগুলিতেও দামের ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে।
মাসের শুরুতেই এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচের হিসেব নতুন করে কষতে বাধ্য করছে। এখন নজর এপ্রিল মাসে, দাম কমার কোনও স্বস্তির খবর মেলে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে ব্যবসায়ী ও গ্রাহক মহল।
