
স্কুল সার্ভিস কমিশন নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের সক্রিয় হল ইডি। দোলের উৎসবের পর আগামী সপ্তাহেই হাজিরার নির্দেশ পাঠানো হয়েছে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়-কে। তদন্তকারী সূত্রে খবর, ১৬ থেকে ১৮ মার্চের মধ্যে তাঁদের কেন্দ্রীয় দফতরে হাজির হতে বলা হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পর দীর্ঘ সময় কারাবন্দি ছিলেন পার্থ ও অর্পিতা। গত বছর নভেম্বর মাসে জামিন পান পার্থ। তার আগে জামিনে মুক্তি পান অর্পিতাও। তবে জামিন মিললেও তদন্তের গতি থামেনি। বরং আর্থিক লেনদেন ও সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখতে সমান্তরালভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে ইডি।
এই মামলায় এর আগে সিবিআই চার্জশিট জমা দিয়েছে। প্রাথমিক নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় আদালতে চার্জ গঠনও সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে, অর্থপাচার ও বেআইনি সম্পত্তির উৎস খুঁজতে ইডি আলাদা করে তথ্য সংগ্রহ করছে। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, নথিপত্র বিশ্লেষণে বেশ কিছু নতুন তথ্য উঠে এসেছে। সেই সূত্রেই পার্থ ও অর্পিতাকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলেও এই তলব ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সক্রিয়তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তিনি নিজেও জনসংযোগে বেরিয়ে আগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এই পরিস্থিতিতে ইডির নতুন নোটিস স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কারা সুবিধাভোগী হয়েছেন, অর্থের লেনদেন কীভাবে হয়েছে এবং সেই অর্থ কোথায় গিয়েছে—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আরও নথি সংগ্রহ ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
দোলের আবহ কাটতে না কাটতেই ফের আইনি চাপ বাড়ছে পার্থ-অর্পিতার উপর। আগামী সপ্তাহের জিজ্ঞাসাবাদ মামলার অগ্রগতিতে নতুন মোড় আনতে পারে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
