
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধের প্রভাবে ভারতের আকাশপথেও বড়সড় আশঙ্কা নেমে এসেছে। দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক (IGI) বিমানবন্দরে গত রবিবার এক দিনেই অন্তত ১০০টি উড়ান বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬০টি বহির্গামী এবং ৪০টি আগত উড়ান রয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার অধিকাংশ দেশ তাদের আকাশপথ বন্ধ করে দেওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
রমজান মাস চলায় প্রতি বছর এই সময়ে ভারত থেকে বহু মানুষ মক্কা ও মদিনায় উমরাহ পালনের জন্য যান। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় বিমান বাতিলের জেরে তাঁরা চরম বিপাকে পড়েছেন। এক ভ্রমণ সংস্থার কর্মী জানান, “মুম্বই থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে আমার বেশ কিছু গ্রাহকের যাওয়ার কথা ছিল, যা বাতিল হয়েছে। রি-শিডিউলিং নিয়ে কোনও আপডেট পাচ্ছি না। এই সময়ে মানুষ ইবাদতের জন্য সৌদি আরব যান, কিন্তু প্রায় সব রুটই এখন অনিশ্চিত।”
রাফিয়া খান নামে এক যাত্রী জানান, “আকাশপথের উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে আমরা আতঙ্কিত ছিলাম। কিন্তু বিমানবন্দরের কর্মীরা অত্যন্ত সহযোগিতামূলক আচরণ করেছেন এবং আমাদের সঠিক তথ্য দিয়েছেন। যার ফলে আমরা বাবা-মাকে সময়মতো বিদায় জানাতে পেরেছি।”
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দিল্লি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ একটি ট্রাভেল অ্যাডভাইজারি জারি করেছে। সেখানে যাত্রীদের বিমানবন্দরে আসার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের কাছ থেকে সর্বশেষ আপডেট জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইন্ডিগো সংস্থাটি জানিয়েছে, কোনও উড়ান প্রভাবিত হলে যাত্রীদের সরাসরি যোগাযোগ করা হবে। বড় কোনো অসুবিধার ক্ষেত্রে যাত্রীরা রিফান্ড বা বিকল্প পথ বেছে নিতে পারবেন।
আকাসা এয়ার জানান, নিরাপত্তা জনিত কারণে আগামী ২ মার্চ পর্যন্ত আবু ধাবি, দোহা, জেদ্দা, কুয়েত এবং রিয়াধগামী সমস্ত উড়ান স্থগিত করেছে আকাসা এয়ার। ৭ মার্চ পর্যন্ত যাঁদের বুকিং ছিল, তাঁরা বিনামূল্যে টিকিট পরিবর্তন বা পূর্ণ রিফান্ড দাবি করতে পারবেন।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি মুহূর্তের মধ্যে বদলে যাচ্ছে। ইজরায়েল ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এবং হাসপাতালগুলোকে ভূগর্ভে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইরান, ইসরায়েল ও ইরাক তাদের আকাশপথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে এই বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। যার ফলে পশ্চিমমুখী প্রায় সমস্ত আন্তর্জাতিক উড়ানই সময়সূচী পরিবর্তন বা বাতিলের মুখে পড়ছে।
