
বিধানসভা ভোটের আবহে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল তৃণমূল কংগ্রেস। শহরের প্রাণকেন্দ্র নজরুল মঞ্চ থেকে দলীয় সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করলেন তফশিলি জাতি ও তফশিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য বিশেষ উন্নয়নমূলক কর্মসূচি। শুধু রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তাই যেন উঠে এল তাঁর বক্তব্যে।
মঞ্চে দাঁড়িয়ে অভিষেক বলেন, “বাংলার উন্নয়ন তখনই সম্পূর্ণ হবে, যখন সমাজের শেষ সারির মানুষও সমান সুযোগ পাবে।” তাঁর কথায় স্পষ্ট ছিল, এই কর্মসূচি কোনও তাৎক্ষণিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক পরিবর্তনের রূপরেখা। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও স্বনির্ভরতার ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, প্রান্তিক পরিবারগুলির ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশেষ স্কলারশিপ, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য সহজ ঋণ সহায়তা চালু করা হবে।
বিশেষভাবে মহিলাদের ক্ষমতায়নের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে আর্থিক ভর্তুকি ও বাজার সংযোগের সুযোগ বাড়ানোর আশ্বাস দেন তিনি। তাঁর কথায়, “মা-বোনেরা এগোলে পরিবার এগোয়, পরিবার এগোলে সমাজ এগোয়।”
অভিষেকের বক্তব্যে উঠে আসে তৃণমূল সরকারের গত এক দশকের কাজের খতিয়ানও। কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, সবুজ সাথী কিংবা লক্ষ্মীর ভান্ডারের মতো প্রকল্পের মাধ্যমে কীভাবে প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, তার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই নতুন কর্মসূচি সেই ধারাবাহিকতারই সম্প্রসারণ। “আমরা কথা দিয়ে থেমে থাকি না, কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করি” দৃঢ় কণ্ঠে জানান তিনি।
সভাস্থলে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের আবেগ ছিল স্পষ্ট। জঙ্গলমহল থেকে উত্তরবঙ্গ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রতিনিধিরা জানান, এই ঘোষণা প্রান্তিক মানুষের মনে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে। বহু বছর ধরে উপেক্ষিত সম্প্রদায়গুলির জন্য আলাদা করে ভাবার এই উদ্যোগকে তাঁরা স্বাগত জানিয়েছেন।
তফশিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষের উন্নয়নকে কেন্দ্র করে এই কর্মসূচি শুধু নির্বাচনী কৌশল নয়, বরং তৃণমূলের সামাজিক দর্শনের প্রতিফলন। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নই যে দলের মূল লক্ষ্য, নজরুল মঞ্চের সভা সেই বার্তাই স্পষ্ট করেছে।
ভোটের আগে এই ঘোষণা যে রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে জল্পনা থাকলেও তৃণমূল নেতৃত্বের বার্তা পরিষ্কার, বাংলার উন্নয়নের যাত্রায় কেউ পিছিয়ে থাকবে না। নজরুল মঞ্চের সেই সন্ধ্যায় রাজনৈতিক ভাষণের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছিল এক প্রতিশ্রুতি, সমতার, মর্যাদার এবং প্রান্তিক মানুষের পাশে থাকার অটল অঙ্গীকার।
