
২০২৬-এর বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে রাজ্যজুড়ে ‘পরিবর্তন যাত্রা’ শুরু করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। সোমবার রায়দিঘির জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ শানিয়ে এমন এক মন্তব্য করেন, যা ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। তাঁর কটাক্ষ, “এবার তৃণমূলকে ভোট দিলে দিদির নয়, ভাইপোর শাসন হবে।”
নাম না করে তিনি স্পষ্টতই নিশানা করেন Abhishek Banerjee-কে। শাহের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee আদতে নিজের উত্তরসূরি হিসেবে অভিষেককেই তুলে ধরতে চাইছেন। তাঁর অভিযোগ, বাংলায় পরিবারতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে, যা রুখতেই বিজেপিকে ক্ষমতায় আনা প্রয়োজন। শাহ বলেন, বিজেপিতে সাধারণ কর্মীও একদিন মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন এটাই তাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি।
দুর্নীতি, নারী নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ ইস্যু থেকে শুরু করে এসআইআর বিতর্ক একাধিক প্রসঙ্গে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর কথায়, “বাংলার উন্নয়ন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লক্ষ্য নয়, লক্ষ্য ভাইপোর উত্থান।” এই মন্তব্য তৃণমূলের অন্দরেও জল্পনা বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এদিন মুর্শিদাবাদে বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক Humayun Kabir-এর উদ্যোগে মসজিদ নির্মাণ প্রসঙ্গও টেনে আনেন শাহ। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি করছে তৃণমূল। যদিও এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে করছে শাসক শিবির।
শাহ তাঁর ভাষণে স্পষ্ট করেন, বিজেপির লক্ষ্য কেবল মুখ্যমন্ত্রী পরিবর্তন নয়, বরং “দুর্নীতিমুক্ত, অনুপ্রবেশমুক্ত ও নারী সুরক্ষায় সুরক্ষিত সোনার বাংলা” গড়ে তোলা। সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করার আশ্বাসও দেন তিনি। বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশনের ভিত্তিতে বেতন কাঠামো চালু করা হবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ‘ভাইপোর শাসন’ মন্তব্যে সরাসরি আক্রমণের কৌশল নিয়েছে বিজেপি। তৃণমূল অবশ্য পাল্টা দাবি করছে, উন্নয়ন ও সামাজিক প্রকল্পই হবে আগামী ভোটের আসল ইস্যু। তবে ভোটের আগে শাহর এই বক্তব্য যে নতুন রাজনৈতিক তরঙ্গ তুলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
