
ভোটপ্রচারে অভিনব পন্থা নিলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট। সোমবার সকালে নিজের বিধানসভা এলাকায় জনসংযোগের সময় তাঁর দুই হাতে দেখা গেল দুটি মাটির লক্ষ্মীর ভাঁড়। একটির গায়ে লেখা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (১৫০০)’, অন্যটিতে লেখা ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার (৩০০০)’। এই দুই প্রকল্পের মেলবন্ধনে মহিলাদের মাসে সাড়ে চার হাজার টাকা ভাতার প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি।
এদিন ঘাটালের বিভিন্ন গ্রামে গৃহস্থের উঠোনে পৌঁছে যান শীতল কপাট। সেখানে মহিলাদের আশ্বস্ত করে তিনি জানান, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলেও বর্তমান সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প বন্ধ হবে না। বরং তার সঙ্গে যুক্ত হবে কেন্দ্রের ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’।
বিধায়কের দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভান্ডারের ১৫০০ টাকা বহাল থাকবে। তার সঙ্গে অতিরিক্ত ৩০০০ টাকা দেওয়া হবে অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের মাধ্যমে। সরকার গঠনের তিন মাসের মধ্যেই মহিলারা মাসে মোট ৪,৫০০ টাকা করে সহায়তা পাবেন।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই ঘাটালের এক বিজেপি নেতা লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে যায়। সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই খোদ বিজেপি বিধায়ককে রাজ্যের এই জনপ্রিয় প্রকল্পকে হাতিয়ার করে প্রচার করতে দেখা গেল। শীতলের কথায়, “বর্তমানে যে প্রকল্পগুলো চলছে, আমরা ক্ষমতায় এলেও সেগুলো থাকবে। মানুষ যাতে বঞ্চিত না হয়, আমরা বরং ভাতার পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দেব।”
বিজেপি বিধায়কের এই প্রচার কৌশলকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল কংগ্রেস। ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি অজিত মাইতি বলেন, “ঠেলায় না পড়লে বিড়াল গাছে ওঠে না। এতদিন বিজেপি নেতারা এই প্রকল্প নিয়ে সমালোচনা করলেও, এখন ভোটের মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারেরই জয়গান গাইতে হচ্ছে তাঁদের।” তিনি আরও দাবি করেন, বিরোধীরাই এখন সরকারি প্রকল্পের প্রচার করে দিচ্ছে, যা তৃণমূলের জয়কে আরও নিশ্চিত করবে।
