
পশ্চিম এশিয়ার আকাশ যেন আগুনে লাল। ইরান–ইজরায়েল–আমেরিকার টানাপোড়েন এবার সরাসরি সামরিক সংঘর্ষে পৌঁছেছে। তারই জেরে উপসাগরীয় দেশ কাতারে ৯২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৭টি ড্রোন ছোড়ে তেহরান। লক্ষ্য ছিল আরবদুনিয়ার সবচেয়ে বড় মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলির একটি, আল উদেইদ এয়ারবেস।
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। তবুও দু’টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির ভেতরে আঘাত হানে। একটি ড্রোন রাডার স্টেশন লক্ষ্য করে হামলা চালায়। ফলে ঘাঁটির একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিস্ফোরণের অভিঘাতে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি খাদ্য গুদামে আগুন ধরে যায়। সেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পাঁচটি বিল্ডিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মোট ১৬ জন আহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কাতারের বিদেশ মন্ত্রক এই হামলাকে তাদের সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে নিন্দা করেছে এবং ‘উপযুক্ত জবাব’-এর অধিকার রাখার কথা জানিয়েছে।
সংঘাতের আগুন আরও উসকে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রয়োজনে স্থলবাহিনী পাঠাতেও আমেরিকা পিছপা হবে না। তাঁর কথায়, লড়াই দীর্ঘ হলেও ওয়াশিংটন প্রস্তুত। তবে একইসঙ্গে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরাক–আফগানিস্তানের মতো দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়াতে চায় না। মূল লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে আনা।
এদিকে হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা করেছে তেহরান। এই জলপথ বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। তা বন্ধ হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠা এই পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক স্পষ্ট। মিসাইল, ড্রোন আর যুদ্ধবিমানের শব্দে অশান্ত আরব আকাশ এই সংঘাত ঠিক কোথায় গিয়ে থামবে, সেই প্রশ্নই এখন বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রে।
