
পশ্চিম এশিয়ার অশান্ত আকাশে যুদ্ধের কালো মেঘ আরও ঘন হচ্ছে। ইজরায়েল–ইরান সংঘাত চতুর্থ দিনে গড়াতেই কূটনৈতিক তৎপরতা তীব্র হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ফোনে কথা বলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে। কথোপকথনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মোদীকে নিজের ‘মহান বন্ধু’ বলে উল্লেখ করে ধন্যবাদ জানান তিনি।
নেতানিয়াহু জানান, কঠিন সময়ে ইজরায়েলের পাশে থাকার জন্য এবং ‘সত্যের পাশে দাঁড়ানোর’ জন্য তিনি মোদীর প্রতি কৃতজ্ঞ। তাঁর কথায়, ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্ক পারস্পরিক বিশ্বাস ও শ্রদ্ধার ওপর দাঁড়িয়ে। যদিও ফোনালাপে ঠিক কোন কোন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে সূত্রের দাবি, যুদ্ধবিরতি এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাই ছিল আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে জানান, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। তিনি দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান এবং সাধারণ নাগরিকদের জীবনরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার অনুরোধ করেন। পাশাপাশি সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাতেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই সংঘাত এত দ্রুত থামছে না। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, পরিস্থিতি আরও কয়েক সপ্তাহ গড়াতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে এই সংঘর্ষ কি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে?
সংঘাতের জেরে ইতিমধ্যেই বহু মানুষের প্রাণহানির খবর মিলেছে। মিসাইল ও ড্রোন হামলায় পশ্চিম এশিয়ার একাধিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত। সীমান্ত পেরিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তীব্র। ইজরায়েলের একাধিক এলাকায় সতর্কতা জারি হয়েছে, ইরানও পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
এই আবহে ভারত কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশল নিয়েছে বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। একদিকে ইজরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, অন্যদিকে পশ্চিম এশিয়ায় কর্মরত লক্ষাধিক ভারতীয়ের নিরাপত্তা দুই দিকই সমান গুরুত্বপূর্ণ। ফলে মোদী-নেতানিয়াহু ফোনালাপ শুধু সৌজন্য নয়, বরং এক জটিল ভূরাজনৈতিক মুহূর্তে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বলেই মনে করছেন কূটনীতিকরা।
