
আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ আরও বেড়েই চলেছে। অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। জানা গেছে, ৭৮টি আসনে নতুন মুখ আনতে চাইছে দল, যেখানে গত বিধানসভা নির্বাচনে তাদের পারফরম্যান্স আশানুরুপ হয়নি। সূত্রের খবর, তালিকা প্রকাশের ঠিক আগে দলের অভ্যন্তরে চলছে তীব্র আলোচনা–কাদের আবারও প্রার্থী করা হবে, আর কাদের বাদ দেওয়া হবে।
দলীয় সূত্র বলছে, মূলভাবে গত পাঁচ বছরের পারফরম্যান্স এবং জয়ী হওয়ার যোগ্যতাই এবার টিকিট বণ্টনের প্রধান মানদণ্ড। যেসব বিধায়ক কম সক্রিয় ছিলেন বা সাফল্য কম দেখিয়েছেন, তাদের টিকিট এইবার দেওয়া হতে পারে না। দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে, শীর্ষ নেতৃত্বের উদ্দেশ্য নতুন প্রতিভা সামনে আনা, বিশেষ করে সেই আসনগুলোতে যেখানে টিএমসি হারিয়েছিল।
বয়সসীমা নিয়ে দলের ভেতরেও জোর আলোচনা চলছে। ৭০ বা ৭৫ বছরের বেশি বয়সী নেতাদের পুনরায় টিকিট দেওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার এই বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। সূত্রের খবর, যারা ভালো পারফর্ম করেছেন, তাদের পুনরায় প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা উঁচু, আর নিষ্ক্রিয় বা কম সক্রিয় নেতাদের টিকিটের আশা কম।
সেলিব্রিটি এবং নতুন মুখকে তালিকায় স্থান দেওয়ার পরিকল্পনা আগের মতোই থাকবে। উত্তরবঙ্গের বিখ্যাত ক্রীড়াবিদ স্বপ্না বর্মণ সম্প্রতি দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন এবং উত্তরবঙ্গের একটি আসনের জন্য তার নাম আলোচনায় রয়েছে। বারাসতের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছে সব্যসাচী দত্তের নাম। পাশাপাশি বালিগঞ্জ, উত্তরপাড়া, মহেশতলা এবং বেহালার মতো আসনগুলিতে প্রবীণ নেতাদের জায়গায় নতুন ও জনপ্রিয় মুখের নামও শোনা যাচ্ছে। প্রাক্তন ফুটবলার মানস ভট্টাচার্য ও কুশল শিল্পী-নায়ক প্রার্থীর নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে।
রাজনৈতিক উত্তরাধিকারীদের জন্য তালিকায় ঢোকার পথ সহজ নয়। সিনিয়র নেতারা তাঁদের সন্তানদের জন্য লবিং করছেন, তবে দল একই এলাকায় দুই প্রার্থী দিতে রাজি নয়। প্রয়োজনে, একজন সিনিয়র নেতা নিজের আসন ছাড়লেও, সেই আসন থেকে কেবল সন্তানকেই প্রার্থী করা হতে পারে।
দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চূড়ান্ত তালিকা অনুমোদন করবেন। সূত্রের মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাংগঠনিক পুনর্গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। এছাড়া প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগ মুহূর্তে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা জল্পনা। কে থাকবেন, কে বাদ পড়বেন এই প্রশ্নই এখন ভোটারদের মধ্যে কৌতূহল বাড়াচ্ছে। রাজ্যের রাজনীতিতে আগুন ধরানোর মতো এই তালিকা প্রকাশের দিন আর দূরে নেই।
