
পশ্চিমবঙ্গে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরেই নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রকাশের পর দেখা যায়, তালিকা থেকে ৬৩ লক্ষেরও বেশি নাম বাদ পড়েছে। তার মধ্যেই প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের আবেদন এখনও নিষ্পত্তিহীন অবস্থায় রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে ফের আসছে Election Commission of India-এর ফুল বেঞ্চ।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটার তালিকার এই বিপুল সংখ্যক আবেদন ঝুলে থাকার ঘটনায় নজরে এসেছে একাধিক অসঙ্গতি। বিশেষ করে ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (AERO) কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইতিমধ্যেই কেস টু কেস ভিত্তিতে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করে কমিশনের কাছে পাঠিয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর।
সূত্রের খবর, সেই রিপোর্টে একাধিক সমস্যার উল্লেখ করা হয়েছে। কোথাও প্রয়োজনীয় নথি আপলোড না হওয়া, কোথাও আবার শুনানিতে হাজিরা দেওয়ার পরও আবেদন দীর্ঘদিন ধরে বিবেচনাধীন থাকা এই সব বিষয় নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন পর্যবেক্ষকরা। কেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে কমিশনের অন্দরে।
এদিকে, শুধু ভোটার তালিকা নয়, বুথ প্রস্তুতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। কোথাও পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই, আবার কোথাও বিদ্যুৎ সংযোগের ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতেই আগামী ৯ মার্চ রাজ্যে আসছেন কমিশনের প্রতিনিধিরা। বুথ প্রস্তুতির অগ্রগতি নিয়ে রাজ্য প্রশাসনকে বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নথি যাচাইয়ের কাজও চলছে। এই কাজের জন্য হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি-নিযুক্ত বিচারিক আধিকারিকরা দায়িত্বে রয়েছেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাত পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ নথি যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ আবেদনেই ভোটারের নাম বহাল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাকি আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা থেকে প্রায় ২০০ জন বিচারিক আধিকারিক রাজ্যে আসছেন। ভোট ঘোষণার আগেই এই প্রক্রিয়া কতটা সম্পূর্ণ হয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।
