
দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের পর এবার সংসদের উচ্চকক্ষে যাওয়ার ছাড়পত্র পেলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিজেপির একমাত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি তাঁর রাজ্যসভার মনোনয়ন পত্র জমা দেন। তবে মনোনয়ন পেশের শেষলগ্নে কিছু কারিগরি ও নথিপত্র সংক্রান্ত ত্রুটির কারণে বিধানসভায় বেশ কিছুক্ষণ বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হয় তাঁকে।
এদিন দুপুর ১২টা নাগাদ মনোনয়ন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও হলফনামা বা এফিডেভিটে কিছু ভুল থাকায় তা পিছিয়ে যায়। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, হলফনামার যেসব জায়গায় ‘Not Applicable’ পূর্ণ বাক্যে লেখার কথা ছিল, সেখানে সংক্ষেপে ‘N/A’ লেখা হয়েছিল। এছাড়াও কিছু অংশ হাতে লেখার নিয়ম থাকলেও তা যান্ত্রিকভাবে মুদ্রিত হয়ে আসায় সমস্যা তৈরি হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দ্রুত ভুল সংশোধনের জন্য প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের আগের বছরের নির্ভুল মনোনয়ন ফাইলটি আনিয়ে তার সঙ্গে মিলিয়ে নতুন করে ফর্ম পূরণ করা হয়। বিজেপির পরিষদীয় দলের দাবি, গত দুদিন সরকারি ছুটি থাকার কারণে নথিপত্র চূড়ান্ত করতে দেরি হওয়ায় শেষ মুহূর্তে এই বিপত্তি ঘটেছে।
৯ বার নির্বাচনী লড়াইয়ে জয় অধরা থাকলেও, এবার বিধানসভার সংখ্যার সমীকরণে কার্যত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাজ্যসভায় যাওয়া নিশ্চিত রাহুল সিনহার। গত মঙ্গলবার বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাঁর নাম ঘোষণা করার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘদিনের ‘বনবাস’ কাটল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। অতীতে দলীয় পদ হারানো নিয়ে কিছু ক্ষোভ থাকলেও, শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য সভাপতি হওয়ার পর থেকে দলে রাহুলের গুরুত্ব বাড়ছিল। অবশেষে দলের প্রতি তাঁর দীর্ঘদিনের আনুগত্যের পুরস্কার হিসেবেই এই মনোনয়ন বলে মনে করা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের ৫টি রাজ্যসভা আসনের মধ্যে শক্তি অনুযায়ী ৪টি তৃণমূলের এবং ১টি বিজেপির পাওয়ার কথা। তৃণমূল ইতিমধ্যেই তাদের ৪ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। ফলে ভোটাভুটির বদলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাতেই রাহুল সিনহার জয় এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।
